ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি ৬ দিন পর ফের বিপদ সীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জল কপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আজ রোববার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারাজের পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২দশমিক ২০ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)।
জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরের বসতবাড়ি রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ।
এতে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, নিজ গড্ডিমারী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, চর সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি,রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করছে।
তিস্তা পারের আকবর আলী বলেন, ৬ দিন আগে বন্যা হয়ে গেল। এতে রোপা আমন ক্ষেত ও রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। আবারও তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করায় ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট পানি প্রবেশ করছে। আমরা এখন বন্যা নিয়ে আতঙ্কে আছি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে আকস্মিক বন্যার দেখা দেয়। পানির তোরে কাঁচা পাকা সড়ক ভেঙে গিয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বন্যায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাব বলেন, উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
thebgbd.com/NA