ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফের অস্থির বাজার

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিচ্ছে, যা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর প্রভাব ফেলছে।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ আগস্ট, ২০২৫
ফের অস্থির বাজার ফাইল ছবি

বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় দেশের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। গত এক মাসে পেঁয়াজ, ডাল, আটা, ডিম, সোনালি মুরগি, মাছ ও বিভিন্ন সবজির দাম সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আয়ের সঙ্গে সংগতি না থাকায় খাদ্যপণ্যের এই চড়া দামে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ ধারাবাহিক নয়, ফলে ভোক্তারা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। ভোক্তাদের অভিযোগ—তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছেন, যা অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৫৬ শতাংশ, যা জুনে ছিল ৭.৩৯ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আগস্টে এই হার আরও বাড়তে পারে।


বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, পেঁয়াজের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ভারতসহ যেকোনো দেশ থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে, যেখানে দাম কম পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই সরবরাহ আনা হবে।


টিসিবি ও রাজধানীর খুচরা বাজারের গত এক মাসের তথ্য অনুযায়ী,


ফার্মের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫-২০% বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে।


দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫% বেড়ে কেজি ৮৫-৯০ টাকা।


দেশি মসুর ডাল ১১-১৪% বেড়ে কেজি ১৫৫-১৬০ টাকা।


খোলা আটা ১২% বেড়ে কেজি ৪৫ টাকা।


সোনালি মুরগি ৭-১০% বেড়ে কেজি ৩২০-৩৪০ টাকা।


মাঝারি রুই মাছ ১২-১৪% বেড়ে কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা।


গোল বেগুন কিছু বাজারে কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


টমেটো ১৪-২৫% বেড়ে কেজি ১৬০-২০০ টাকা।


অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিচ্ছে, যা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর প্রভাব ফেলছে। কয়েক বছর ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।


ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা, ডলার সংকট, সরবরাহ চেইনের ব্যাঘাত ও অদক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকটও এর অন্যতম কারণ।


তিনি দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে বাজার তদারকি জোরদার, মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন।


এদিকে, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সবজির হাট বগুড়ার মহাস্থানে দুই মাসের ব্যবধানে সবজির পাইকারি দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। অতি বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পাইকারিতে বেগুন মণপ্রতি ২,৬০০-২,৮০০ টাকা, করলা ৩,০০০-৩,২০০ টাকা, বরবটি কেজি ৭০ টাকা ও শসা মণপ্রতি ১,৭০০-১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবহাওয়াজনিত কারণে সরবরাহ কম থাকায় দাম স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।


thebgbd.com/NIT