ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের পরদিন ভাসানী সেতুর ল্যাম্পপোস্টের তার চুরি

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সদ্য উদ্বোধন হওয়া ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ উদ্বোধনের একদিন পরই আলোহীন অন্ধকারে ডুবে গেছে। কারণ, সেতুর ল্যাম্পপোস্টে সংযোগ দেওয়া বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে গেছে।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ আগস্ট, ২০২৫
উদ্বোধনের পরদিন ভাসানী সেতুর ল্যাম্পপোস্টের তার চুরি ছবি : সংগৃহীত।

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সদ্য উদ্বোধন হওয়া ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ উদ্বোধনের একদিন পরই আলোহীন অন্ধকারে ডুবে গেছে। কারণ, সেতুর ল্যাম্পপোস্টে সংযোগ দেওয়া বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি প্রথম স্থানীয়দের নজরে আসে। তাদের অভিযোগ, চোর চক্র হরিপুর প্রান্ত থেকে মাটি খুঁড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগের তার কেটে নিয়ে গেছে। এর ফলে টানা দুই দিন ধরে সেতুর ল্যাম্পপোস্টগুলো নিভে আছে, যা যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সেতুর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের পরেও পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর গাফিলতিকে দায়ী করছেন।

এর আগে, উদ্বোধনের দিন বুধবার রাতেও সেতুতে আলো জ্বলেনি। হাজারো মানুষ সেতু দেখতে এলেও অন্ধকারের কারণে পড়তে হয়েছে চরম বিড়ম্বনায়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

যদিও এলজিইডির গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী উদ্বোধনের রাতে মুঠোফোনে দাবি করেছিলেন, কন্ট্রোল মেশিন হঠাৎ নষ্ট হওয়ায় লাইট জ্বালানো সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানে ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগবে। কিন্তু শুক্রবার ক্যাবল চুরির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ক্যাবল চুরির বিষয়টি জানতে বারবার মুঠফোনে যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী ফোন রিসিভ করেনি। 

তবে এলজিইডি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান মিলন বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ক্যাবল চুরি হওয়ায় সেতুর বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা যায়নি। তবে কী পরিমাণ ক্যাবল চুরি হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত বুধবার দুপুরে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এক হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা।


বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে এলজিইডির বাস্তবায়নে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। সেতুতে মোট ৩১টি স্প্যান রয়েছে। সংযোগ সড়ক ও নদীশাসনসহ প্রকল্পে প্রায় ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।


thebgbd.com/NA