ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে কনটেন্ট তৈরি করতেন তৌহিদ আফ্রিদি

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভিডিও বানিয়ে হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেওয়াই ছিলো এসব কনটেন্টের মূল উদ্দেশ্য।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ আগস্ট, ২০২৫
হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে কনটেন্ট তৈরি করতেন তৌহিদ আফ্রিদি ফাইল ছবি

গত বছর জুলাই আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকায় থাকা আলোচিত ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সেসময় আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার ঘটনায় সরকারের পক্ষে কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন তিনি।


আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভিডিও বানিয়ে হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেওয়াই ছিলো এসব কনটেন্টের মূল উদ্দেশ্য।


তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেই কনটেন্ট বানাননি, অন্যান্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও আওয়ামী সরকারের পক্ষে কাজ করতে চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় অনেকে নির্যাতনের শিকার হন।


শুধু জুলাই আন্দোলন নয়, অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে শেখ হাসিনার পক্ষে কনটেন্ট তৈরি করেছেন আফ্রিদি। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি, যা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল, তাদের ডিবি কার্যালয়ে এনে নির্যাতনের শিকার করা হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।


গত বছরের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলেও এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন আফ্রিদি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসে।


এদিকে ‘ডেইলি শো উইথ ফকরুল’ নামে একটি ফেসবুক পেজে অভিযোগ করা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে ভিডিও বানাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হুমকি দেন আফ্রিদি। এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভিডিও বানাতে চাপ দেন তিনি। রাজি না হওয়ায় ওই ক্রিয়েটর নির্যাতনের শিকার হন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


অবশেষে রোববার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে তৌহিদ আফ্রিদিকে। ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় গ্রেফতার আফ্রিদিকে আদালত ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। এর আগে গত ১৭ আগস্ট একই মামলায় রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হন আফ্রিদির বাবা, বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী।


গতকাল সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে আফ্রিদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। দুপুর ৩টা ২৫ মিনিটে এজলাসে নেওয়া হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক খান মো. এরফান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।


রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তৌহিদ আফ্রিদি শুধু মাইটিভির পরিচালকই নন, তিনি একজন প্রভাবশালী মিডিয়া সন্ত্রাসী। আন্দোলন চলাকালে তিনি লাইভে এসে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের দমন করতে উসকানি দেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছেন। তার প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, এতে প্রাণ হারান আসাদুল হক বাবু।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, 'আসামিকে রিমান্ডে নিলে কারা হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল এবং কার নির্দেশে এটি ঘটেছে, তা জানা সম্ভব হবে।'


যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জামিন আবেদন করে বলেন, 'পুলিশ ও ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাবুর মৃত্যু হয়। আফ্রিদি আওয়ামী লীগের কেউ নন। আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্রদের পক্ষেই একাধিক পোস্ট করেছিলেন।'


সেসময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলার বাদীও এফিডেভিট দিয়ে বলেছেন, ভুল তথ্যের কারণে আফ্রিদিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এদিকে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তৌহিদ আফ্রিদির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


thebgbd.com/NIT