ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে বিক্ষোভ চলছে

তেল আবিবে সূর্য অস্ত যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে, আরও কয়েক সহস্র মানুষ ‘হোস্টেজ স্কোয়ারে’ জড়ো হয়।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৭ আগস্ট, ২০২৫
ইসরায়েলে বিক্ষোভ চলছে এক বিক্ষোভকারী।

গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সরকারকে চাপ দেওয়ার লক্ষ্যে, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক চলাকালে, মঙ্গলবার তেল আবিবে কয়েক সহস্র বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তেল আবিব থেকে এএফপি এ খবর জানায়।


এএফপির সাংবাদিকরা জানান, বিক্ষোভকারীরা ভোরে বাণিজ্যিক কেন্দ্রের রাস্তা অবরোধ করে প্রথম বিক্ষোভ শুরু করে। তারা ইসরায়েলি পতাকা ওড়ায় এবং জিম্মিদের ছবি তুলে ধরে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, অন্যরা নগরীর মার্কিন দূতাবাস শাখার কাছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রীর বাড়ির বাইরে সমাবেশ করে।


তেল আবিবে সূর্য অস্ত যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে, আরও কয়েক সহস্র মানুষ ‘হোস্টেজ স্কোয়ারে’ জড়ো হয়। স্থানটি কয়েক মাস ধরে প্রতিবাদ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত আসছে। জনতা এয়ার হর্ন, বাঁশি ও ঢোল বাজিয়ে স্লোগান দেয়। তারা জানায়, ‘সরকার আমাদের ব্যর্থ করছে, প্রতিটি জিম্মি বাড়িতে না আসা পর্যন্ত আমরা হাল ছাড়ব না।


২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী ইয়োভ ভিদার বলেন, ‘এখানে প্রথম এবং সর্বাগ্রে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি,  সরকারকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ও সমস্ত জিম্মি বাড়ি ফিরিয়ে আনার এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানাতে এসেছি।’


মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তবে সরকারের উদ্দেশ্য অনেকটাই অস্পষ্ট রয়ে গেছে। ইসরায়েল মিডিয়া জানিয়েছে, বৈঠকটির সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা সবেমাত্র একটি মন্ত্রিসভার বৈঠক করে এসেছি। আমার মনে হয় না খুব বেশি বিস্তারিত বলতে পারব। তবে একটা কথাই বলব, এটি গাজায় শুরু হয়েছে এবং এটি গাজাতেই শেষ হবে। আমরা সেই দানবদের সেখানে ছেড়ে দেব না।’


ইসরায়েল গাজা অভিযান শেষ করার জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আগাস্টের গোড়ার দিকে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা দখলের জন্য সেনাবাহিনীর একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যার ফলে জিম্মিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয় এবং বিক্ষোভের এক নতুন ঢেউ শুরু হয়, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।


নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে গাজার বাকি সকল জিম্মি মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনার নির্দেশ দেন, একই সঙ্গে গাজার বৃহত্তম শহর দখলের জন্য নতুন আক্রমণের পরিকল্পনাও দ্বিগুণ করেন।


আগের দিন, তেল আবিবে জিম্মিদের পরিবারগুলো গাজায় এখনও বন্দী থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে পারে এমন একটি চুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে। তারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জিম্মিদের মুক্তির চেয়ে হামাসের ধ্বংসকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।’


সূত্র: এএফপি


এসজেড