ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৮ আগস্ট, ২০২৫
আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা হামলার পর তোলা ছবি।

আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার এবং খোস্ত প্রদেশে বুধবার গভীর রাতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আফগান কর্মকর্তারা। এই হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তালেবান সরকার।


খোস্ত প্রদেশের মিডিয়া প্রধান জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তবর্তী প্রদেশটির স্পেরা জেলায় হাজী নাঈম খান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়, এতে তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। অন্যদিকে নাঙ্গারহারের শিনওয়ার জেলায় তালেবান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ড্রোন হামলায় শাহসাওয়ার নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তার চার ছেলে এবং দুই স্ত্রী আহত হয়েছেন।


এ হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর– আইএসপিআর রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের সাড়া দেয়নি।


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে, ইসলামাবাদ সীমান্তের ওপারে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিদের পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে, অন্যদিকে কাবুল জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কাবুলে চীনা ও আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাত্র এক সপ্তাহ পরে নাঙ্গারহার এবং খোস্ত প্রদেশে এই হামলা চালানো হল। এই আলোচনায় তিন দেশ সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আফগানিস্তানে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়।


এদিকে তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানায় সরকার। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে’। এতে আরও বলা হয়েছে, কাবুলে বৈঠকের সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত উবাইদ-উর-রেহমান নিজামনিকে একটি প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে।


২০২২ সালে কাবুলে পাকিস্তানের দূতাবাস কম্পাউন্ডে হামলার পর নিজামনি বেঁচে যান, কিন্তু বারবার সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও তিনি ইসলামাবাদের শীর্ষ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।


সূত্র: রয়টার্স


এসজেড