ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জিহাদিদের দখলে মালির শহর

রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ৪শ’ কিমি উত্তরের শহর ফারাবুগো, সেগো অঞ্চলের কেন্দ্রে হওয়ার কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৯ আগস্ট, ২০২৫
জিহাদিদের দখলে মালির শহর মালি।

আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত জিহাদিরা মালি শহরের সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প দখলের এক সপ্তাহ পর মধ্য মালির কৌশলগত শহর ফারাবুগো দখলে নিয়েছে। দেশটি যখন নতুন করে জিহাদি সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন ফারাবুগোর দখল একটি প্রতীকী ঘটনা। স্থানীয় সূত্র বৃহস্পতিবার এএফপি’কে এই তথ্য জানিয়েছে। বামাকো থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে।


২০২০ সালে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তা কর্তৃক গৃহীত প্রথম পদক্ষেপগুলির মধ্যে একটি ছিল ছোট শহরটির জিহাদি অবরোধের অবসান ঘটানো। আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত গ্রুপ ফর দ্য সাপোর্ট অব ইসলাম অ্যান্ড মুসলিমস (আরবিতে জেএনআইএম) এর যোদ্ধারা তাদের প্রচারণা প্ল্যাটফর্ম আল-জাল্লাকায় প্রকাশিত বার্তায় দাবি করেছে, তারা এই অভিযানের পিছনে আছে। এলাকা থেকে পালিয়ে আসা স্থানীয় নির্বাচিত কর্মকর্তারা এএফপি’কে জানিয়েছেন, ফারাবুগো এখন জেএনআইএম-এর নিয়ন্ত্রণে। 


এক সপ্তাহ আগে জিহাদি হামলার পর এই অঞ্চলে সেনাবাহিনীকে তাদের ক্যাম্প থেকে সরে যেতে হয়। যা এই অঞ্চলের বৃহত্তম ক্যাম্পগুলোর মধ্যে একটি। এরপর থেকে স্থানীয়ভাবে সেনাবাহিনী কোনো হস্তক্ষেপ করেনি এবং কর্তৃপক্ষ হামলায় হতাহতের সংখ্যাও জানায়নি।


রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ৪শ’ কিলোমিটার (২৫০ মাইল) উত্তরে অবস্থিত ফারাবুগো। সেগো অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানের কারণে এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার বাসিন্দারা এএফপি’কে জানিয়েছেন, জিহাদি শাসনের অধীনে জীবনযাপনের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও কেউ কেউ বাড়ি ফিরে আসছেন। 


ওই এলাকার এক বাসিন্দা টেলিফোনে এএফপি’কে বলেছেন, ‘গ্রামের প্রধান জিহাদিদের সাথে স্বাক্ষর করে বলেছেন, আমরা তাদের আইনকে সম্মান করব। তারা বলেছে, আমরা ফিরে যেতে পারি। এখন এই অঞ্চলে সেনাবাহিনী নেই।’ এক স্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘বাসিন্দারা কী করতে পারে? কারো কারো আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’


ফিরে আসা বাসিন্দাদের জেএনআইএম-কে কর দিতে হবে এবং এর নিয়ম মেনে নিতে হবে। বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্গীতের পাশাপাশি সিগারেট এবং অ্যালকোহলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মাথা ঢেকে না রেখে মহিলাদের বাইরে বেরোতে দেওয়া হবে না।


২০১২ সাল থেকে জিহাদি যোদ্ধা এবং অপরাধী চক্রের সহিংসতার মধ্যে মালি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করছে। ২০২০ এবং ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় থাকা মালির সামরিক জান্তা পশ্চিমা অংশীদারদের বিশেষ করে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড