চীন আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার সন্ধ্যায় চীনের তিয়ানজিন শহরে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে টানাপেড়নের মধ্যেই দীর্ঘ সাত বছর পর চীনে পা রাখলেন মোদি। শেষবার ২০১৯ সালে চীন সফর করেন তিনি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০টিরও বেশি দেশের নেতাদের অংশগ্রহণের একদিন আগেই তিয়ানজিনে পৌঁছেছেন।
জাপানে দুইদিনের সফর শেষে শনিবার (৩০ আগস্ট) চীনের তিয়ানজিন বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয় চীনা কতৃপক্ষ। ২০২০ সালে লাদাখে ভারত-চীন সংঘর্ষের পর এটিই মোদির প্রথম চীন সফর। ওই সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করছে।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলন রোববার এবং সোমবার উত্তর বন্দর নগরীতে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিকটবর্তী বেইজিংয়ে একটি বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের কয়েকদিন আগে এই সম্মেলন আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে। চীনের তিয়ানজিন থেকে এএফপি আজ এই খবর জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন প্রায় ২৬ জন বিশ্বনেতার মধ্যে কুচকাওয়াজে যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় মোদির নাম নেই। ২০১৮ সালের পর প্রায় সাত বছর পর জাপান সফরের ঠিক পরেই মোদীর এই প্রথম চীন সফর। মোদির জাপান সফরে ভারতে ৬৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দু’টি দেশ চীন এবং ভারত, দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে প্রভাব বিস্তারের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ২০২০ সালে একটি মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়। গত অক্টোবরে রাশিয়ায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদির সাক্ষাতের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, বিষয়টি যদি শুধু এসসিও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার মধ্যে সীমিত থাকত, তা হলে অসুবিধা ছিল না। যেহেতু জিন পিংয়ের সঙ্গে মোদি পার্শ্ববৈঠকও করবেন, তাই বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ সময়টা। কারণ, এই সময়েই ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর মধ্যে চীনও রয়েছে। কূটনীতিকদের একাংশের মত, এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও কূটনৈতিক দৌত্য চালিয়ে দিল্লি বহুপাক্ষিক কূটনীতির পথ খোলা রাখতে চাইছে।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি
এসজেড