যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা একটি মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালিয়ে ১১ জন ‘মাদক সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, বামপন্থী ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি মাদক চক্রের সদস্য ছিল তারা। তার প্রশাসন সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যারিবিয়ানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করার পর এটিই প্রথম হামলা। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি স্পিডবোট বা দ্রুতগামী নৌকায় বেশ কয়েকজন লোক ছিল। নৌকাটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যেতে দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ক্যারিবিয়ানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করার পর, কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অচলাবস্থার একটি সম্ভাব্য উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রে একে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত করছে। ট্রাম্প প্রথমে হোয়াইট হাউসে ঘোষণা করেন, মার্কিন বাহিনী ‘একটি মাদক বহনকারী নৌকা’ গুলি করে নৌকাটি ধ্বংস করেছে। বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প পরে তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে হামলা সম্পর্কে একটি বিবৃতি পোস্ট করেছেন, সেই সঙ্গে বিস্ফোরিত নৌকার সাদা-কালো ভিডিও পোস্ট করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘সকালে আমার নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিবাচকভাবে চিহ্নিত ট্রেন ডি আরাগুয়ার মাদক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সন্ত্রাসীরা যখন অবৈধ মাদক পরিবহন করে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়।’
ট্রাম্প আরও বলেন, এই ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর কোনও ক্ষতি হয়নি। এ ধরনের ঘটনাকে তিনি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে তার অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, ভেনেজুয়েলার একটি দল, ট্রেন ডি আরাগুয়া নিকোলাস মাদুরোর নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র বছরের শুরুতে এই দলটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প তার পোস্টে আরও লিখেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক আনার কথা ভাবছেন, দয়া করে এটিকে সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখুন। সাবধান হয়ে যান।
সূত্র: এএফপি
এসজেড