ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঠিকাদার বললেন—‘কে কলা খায়, আপনারা জানেন’

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি গোরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ও এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ঠিকাদার বললেন—‘কে কলা খায়, আপনারা জানেন’ ছবি : সংগৃহীত।

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি গোরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ও এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গ্রেড বিমগুলোতে হাত দিলেই ঢালাই খুলে পড়ছে। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে সেগুলো গুড়িয়ে দেয় স্থানীয় লোকজন। এদিকে অনিয়মের কথা স্বীকার করে নতুন সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কথা জানিয়েছেন সদর এলজিইডির প্রকৌশলী।


গত কয়েকদিনে গোরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। করবস্থানের মতো জায়গাতেও অনিয়ম করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সদর উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তি দাবিসহ বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন নেটিজনরা।


অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় একটি কবরস্থানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিক লাগিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মিত গ্রেডবিমগুলো ভাঙছেন। তবে তাদের নির্মাণের ঢালাই করা গ্রেডবিমগুলোর পলেস্তারায় হাত দিলেই খসে পড়ছে। আর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী প্রমোদ চন্দ্র রায় ও সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়েন এই দুই কর্মকর্তা। একপর্যায়ে তারা কাজ বন্ধ করে দেয়।


জানা গেছে, স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজীপাড়া এলাকায় একটি গোরস্থানের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ পান আল আকসা নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গতকাল ঢালাই করা হয়। পরদিন কাঠ খুললে দেখা যায় সব খসে পড়ছে। এসময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রতিবাদ জানিয়ে সেই কাজ বন্ধের পাশাপাশি পিলারসহ গ্রেডবিম গুড়িয়ে দেয়।


স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকার মানুষ সচেতন বলেই অনিয়ম ধরতে পেরেছেন। মানুষ মারা গেলে কবরস্থানে মাটি দিবে সেখানেও অনিয়ম করে কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদার। এখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মাবুদ হোসেন ও ঠিকাদারের যোগসাজশ আছে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ খুঁটিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই দাবি করেন তারা।


রফিকুল ইসলাম ও সাজ্জাত নামে দুই যুবক বলেন, কবরস্থানেও যদি ঠিকাদার ও এলজিইডির লোকজন অনিয়ম করে এটার মতো দুঃখজনক আর কিছুই নেই। এই কবরস্থানে আমাদের মা-বাবা-আত্মীয়-স্বজনরা সবাই শুয়ে আছে আর এলজিইডি ও ঠিকাদারের লোকজন প্রাচীর নির্মাণের নামে চুরি করছে। এরা কি মানুষ না অমানুষ? অবশ্যই এখানে এলজিইডির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই অনিয়মগুলো হচ্ছে। ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল করা হোক এবং এলজিইডির কর্মকর্তাদের চাকুরিচ্যুত করা হোক।


এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আকসার প্রতিনিধি পশিরুল ইসলাম বলেন, আগের ঢালাই করা নির্মিত গ্রেডবিমগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়া হবে। অনিয়মের কারণের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যা হয়েছিলো সব কিছু উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশেই করা হয়েছে। আমাকে বিরক্ত করবেন না। কে কলা খায় সবই জানেন আপনারা।


এ ব্যাপারে উপসহকারী প্রকৌশলী প্রমোদ চন্দ্র রায় জানান, এটা তদারকির অভাবে অনিয়ম হয়েছে। ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম, বালুর পরিমাণ বেশি ছিল। কাজ করার সময় না জানিয়ে করেছে ঠিকাদার। আর সে কারণে অনিয়ম করেছেন তিনি। ঠিকাদারকে পুনরায় ভেঙে নতুন করে গ্রেডবিমগুলোতে ঢালাই দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।


ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে এখানে আমার হাত নেই। নিয়ম হলো ঢালাই করার দুই সপ্তাহ পর স্যাটারিং খোলা হয়। কিন্তু ঠিকাদার তা না করে মাত্র একদিন পরেই তা খুলে কাজ শুরু করে দেয়। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে তারা পুনরায় কাজ করে দেবেন। তবে এ কাজে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের অবহেলা আছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।


thebgbd.com/NA