মানুষের জীবন ও সমাজে নিরাপত্তা হলো সবচেয়ে বড় চাহিদা। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুরক্ষাও জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রকৃত নিরাপত্তা কেবল আইন-শৃঙ্খলা বা শক্তির জোরে প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং তা গড়ে ওঠে নৈতিকতা, আস্থা ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তির ওপর। ঠিক এই জায়গাতেই ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবতার জন্য রেখে গেছেন এক মহামূল্যবান প্রেসক্রিপশন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শের মূলকথা ছিল সার্বিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা—মানুষের জান, মাল, ইজ্জত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া। বিদায় হজের ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন তোমাদের এই দিন, এই মাস ও এই শহর হারাম।” এ ঘোষণার মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, মানব নিরাপত্তার মৌলিক নীতি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ইসলামের আলোকে নিরাপত্তা মানে শুধু বাহ্যিক শৃঙ্খলা নয়, বরং অন্তরের প্রশান্তি। নবীজির শিক্ষা হলো, সমাজে মুমিনের পরিচয় হবে এমন যে, তার হাত ও জিহ্বা থেকে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ দৃষ্টিভঙ্গি আজকের যুগের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পরিবারে পারস্পরিক ভালোবাসা, সমাজে ভ্রাতৃত্ব, রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার—এসবই নববী প্রেসক্রিপশনের অপরিহার্য অংশ।
ধর্মীয় আলেমদের মতে, কেবল আইন বা বাহ্যিক শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখা যায় না, যদি মানুষের হৃদয়ে খোদাভীতি না থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন তাকওয়া, ধৈর্য, সততা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার। এগুলো ছাড়া প্রকৃত নিরাপত্তা সম্ভব নয়। কারণ দুর্নীতি, অন্যায়, লোভ আর বিদ্বেষই সমাজে অনিরাপত্তার মূল উৎস।
আজকের পৃথিবীতে সন্ত্রাস, যুদ্ধ, বৈষম্য ও সামাজিক অশান্তির প্রেক্ষাপটে নববী প্রেসক্রিপশন হয়ে উঠতে পারে সর্বজনীন সমাধান। তাঁর শিক্ষা অনুসরণ করলে পরিবারে আসবে শান্তি, সমাজে আসবে আস্থা, আর রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়ভিত্তিক নিরাপত্তা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শই মানবতার জন্য সর্বকালের নিরাপত্তার চাবিকাঠি।
https://thebgbd.com/BYB