মানুষের জীবনে কিছু সুযোগ আসে, যা তার ভাগ্য পাল্টে দিতে পারে। দুনিয়ার সামান্য সুযোগ হারালে হয়তো ক্ষতি সীমিত, কিন্তু আখেরাতের চূড়ান্ত সুযোগ হারালে তা নিয়ে আসবে ধ্বংসের অনিবার্য পরিণতি। ইসলামের আলোকে সেই সুযোগ হলো ঈমান আনা, আল্লাহর ইবাদত করা এবং নেক আমল অর্জনের সময়—যা কেবল দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে পাওয়া যায়।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে সতর্ক করেছেন, “তোমরা যা কিছু দিয়েছ, মৃত্যু এসে গেলে সে বলবে, ‘হে আমার প্রভু! তুমি যদি আমাকে অল্প কিছু সময় অবকাশ দিত, তবে আমি দান-সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ কিন্তু যখন কারও মৃত্যু এসে যায়, তখন আল্লাহ কাউকে মোটেও অবকাশ দেন না” (সূরা মুনাফিকুন: ১০-১১)। এই আয়াত দেখিয়ে দেয়, সুযোগের সময় হলো শুধু দুনিয়ার জীবন, মৃত্যুর পর আর কোনো পথ খোলা নেই।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কবর হলো আখেরাতের প্রথম ধাপ। যে সেখানে সফল হলো, তার পরের ধাপগুলো সহজ হয়ে গেল।” অর্থাৎ মৃত্যুর আগে যে সুযোগ কাজে লাগানো যাবে, কেবল সেটাই হবে আখেরাতের মুক্তির মূল পুঁজি।
ধর্মীয় আলেমরা বলেন, মানুষকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হলো সময়, আর উত্তরপত্র হলো আমাদের আমল। যে ব্যক্তি জীবনের এই অমূল্য সময়কে অবহেলা করবে, নামাজ-রোজা, সৎকর্ম ও তওবা থেকে দূরে থাকবে, তার জন্য আখেরাতে অপেক্ষা করবে ভয়াবহ পরিণতি।
বাস্তবতা হলো, দুনিয়ার প্রতিটি দিনই আমাদের হাতে একটি করে সুযোগ। একদিন চলে গেলে তা আর কখনো ফিরে আসে না। তাই বুদ্ধিমান সেই, যে সময়কে কাজে লাগায় এবং আখেরাতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকে। সুযোগ হারালে কেবল আক্ষেপ থাকবে, কিন্তু তাতে আর কোনো লাভ হবে না।
https://thebgbd.com/BYB