মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো আখেরাতে জান্নাত লাভ করা। ইসলামে জান্নাতকে বর্ণনা করা হয়েছে অনন্ত সুখ, শান্তি ও পুরস্কারের আবাস হিসেবে। তবে জান্নাতে প্রবেশের জন্য আল্লাহ অসংখ্য দোয়া ও ইবাদতের পথ দেখিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে এমন একটি দোয়া, যা পাঠ করলে জান্নাতের আটটি দরজাই পাঠকের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ওযু করে এবং (ওযুর পর) সাক্ষ্য দেয়—আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু—তার জন্য জান্নাতের আট দরজা খুলে দেওয়া হয়। সে ইচ্ছা করলে যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।” (সহিহ মুসলিম)
এই দোয়া হলো—
اَشْهَدُ اَنْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ ۙ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ
বাংলা উচ্চারণ:
আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
অর্থ:
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।”
ইসলামের আলেমরা বলেন, এই দোয়ায় ঈমানের মূল ঘোষণা নিহিত রয়েছে। ওযুর পর এ দোয়া পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলিম শুধু পবিত্রতাই অর্জন করে না, বরং জান্নাতের জন্য আল্লাহর বিশেষ প্রতিশ্রুতির যোগ্য হয়ে ওঠে। জান্নাতের আট দরজা হলো—সালাত, জিহাদ, সাদাকা, রায়ান (রোজাদারদের জন্য), হজ্জ, কেলিমা, দয়া ও অন্যান্য নেক আমল। এ দোয়ার মাধ্যমে মুসলিমকে আল্লাহ এই সব দরজার অনুমতি দেন, যেন সে যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারে।
তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত ওযুর পর নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করা। কারণ এটি শুধু আখেরাতের মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না, বরং ঈমানকে নবায়ন করে এবং আল্লাহর নিকট বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে তোলে।
https://thebgbd.com/BYB