ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কোথায় পালাচ্ছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী?

সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে উত্তাল জনবিক্ষোভের প্রেক্ষিতে, মঙ্গলবার বিকেলে শত শত বিক্ষোভকারী তার দপ্তরে ঢুকে পড়ার পর ওলি পদত্যাগ করেন।
  • অনলাইন ডেস্ক | ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
কোথায় পালাচ্ছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী? ফাইল ছবি

জেন-জিদের আন্দোলনের তোপে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করায় ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে জেন-জিরা। এ সময় চলমান সংঘাতে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে তিনি সম্ভবত পালিয়ে দুবাই অথবা ভারতে আশ্রয় নেবেন।


সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ওলি দেশ ছাড়তে পারেন; বিক্ষোভের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


সাবেক নেপালি প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি চিকিৎসার অজুহাতে দুবাই সফরের পরিকল্পনা করছেন। এ উদ্দেশ্যে হিমালয়া এয়ারলাইন্সকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।


এর আগে কেপি শর্মা ওলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলমান সংকটের সংবিধানসম্মত সমাধানের পথ সুগম করার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন।


এর আগে মঙ্গলবার ভোর থেকে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ সারা নেপালে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। এ সময় উত্তেজিত জনতা একাধিক প্রভাবশালী নেতার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আক্রমণের শিকার হয় ওলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাসভবনও। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।


সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন রেগমি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ৯০ জন।


এর আগে তরুণদের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের পর দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর সংকট নিরসনে সর্বদলীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি।


সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে উত্তাল জনবিক্ষোভের প্রেক্ষিতে, মঙ্গলবার বিকেলে শত শত বিক্ষোভকারী তার দপ্তরে ঢুকে পড়ার পর ওলি পদত্যাগ করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে বহুল আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।


দেশজুড়ে বিক্ষুব্ধ জনগণ ওলির নেতৃত্বাধীন সাবেক মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও দুর্নীতির অভিযোগে জবাবদিহিতা দাবি করে আসছে। এরই মধ্যে তাঁর বিদেশ সফরের খবর সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।


নেপালে চলমান অস্থিরতা ও জনরোষের মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি তাঁর দায়িত্ব উপ-প্রধানমন্ত্রী বিষ্ণু পাউডেল-এর হাতে অস্থায়ীভাবে তুলে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার একের পর এক পদত্যাগ এবং উত্তাল আন্দোলনের মাঝেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।


মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সর্বদলীয় বৈঠকের ঘোষণাও দেন ওলি। তিনি বলেন, ‌‘আমি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি, যেন আমরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে একটি অর্থবহ সমাধানে পৌঁছাতে পারি। সে উদ্দেশ্যে আজ সন্ধ্যা ৬টায় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছি। এই কঠিন সময়ে আমি দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করছি—সবাই শান্ত থাকুন।’


সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস


thebgbd.com/NIT