ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৫৪ বছর পর সোনার দাম আকাশছোঁয়া, বিনিয়োগে বিভ্রান্ত ক্রেতারা

আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ডলার বা শেয়ারের পরিবর্তে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনায় ঝুঁকছেন।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
৫৪ বছর পর সোনার দাম আকাশছোঁয়া, বিনিয়োগে বিভ্রান্ত ক্রেতারা ফাইল ছবি

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার বছরে এক ভরি সোনার দাম ছিল মাত্র ১৭০ টাকা। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এসে সেই দাম দাঁড়িয়েছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এক সময় স্বপ্নের অলংকার হিসেবে ধরা সোনা এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দাম বাড়ছে এবং এটি আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।


আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ডলার বা শেয়ারের পরিবর্তে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনায় ঝুঁকছেন। ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে পারে—এমন পূর্বাভাসও এই ধাতুর বাজারকে চাঙ্গা করছে। গতকাল স্পট মার্কেটে এক আউন্স সোনার দাম দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৫৪ ডলারে। অস্ট্রেলিয়ান ঋণদাতা এএনজেড গ্রুপ ধারণা দিয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, আগামী জুনের মধ্যে তা চার হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এখন প্রশ্ন, সোনার অলংকার বিক্রি করা ভালো নাকি কেনা ভালো? হিসাব বলছে, পুরোনো অলংকার বিক্রি করলে মুনাফা পাওয়া যায়। যেমন, ১০ বছর আগে ৪৩ হাজার টাকায় কেনা এক ভরি ২২ ক্যারেটের অলংকার আজ বিক্রি করলে পাওয়া যাবে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। তবে এর ক্ষেত্রে ক্যারেট ও ব্যবসায়ীর কাটছাঁটের পরিমাণ ভিন্ন হয়।


বাংলাদেশে সরাসরি সোনায় বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত। তাই অলংকার কেনাকাটাই প্রধান ভরসা। কিন্তু এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট ও মজুরি যোগ হওয়ায় খরচ আরও বাড়ে। ফলে ভরিপ্রতি অলংকার কিনতে খরচ পড়ে প্রায় দুই লাখ টাকা। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে নতুন অলংকার কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। বরং পুরোনো অলংকার বিক্রি করলেই ভালো মুনাফা মিলবে।


জুয়েলার্স সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, এখন সোনার দাম অস্বাভাবিক। তাই অযথা অলংকার কেনা ঠিক হবে না। তবে মানসম্মত ব্র্যান্ডের দোকান থেকে কেনা হলে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে না।


২০০৭ সালে হলমার্ক বাধ্যতামূলক হওয়ার পর বাজারে কিছুটা স্বচ্ছতা এসেছে। আগে বিশুদ্ধ সোনার পরিমাণ নিয়ে জটিলতা থাকলেও এখন তা অনেকটা কমেছে। বর্তমানে দেশে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের অলংকারই বেশি তৈরি হয়। বিশুদ্ধতার দিক থেকে এগুলো ক্রেতাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।


thebgbd.com/NIT