ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জাকসুর ফল প্রকাশ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
জাকসুর ফল প্রকাশ ছবি : সংগৃহীত।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে শিবিরপন্থী প্যানেল বিপুল সংখ্যক পদে জয়লাভ করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও জয় ধরা দিয়েছে।


ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়ী হয়েছেন শিবিরপন্থী প্রার্থী মো: মাজহারুল ইসলাম। সহ-সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ফেরদৌস আল হাসান এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে আয়েশা সিদ্দীকা মেঘলা নির্বাচিত হয়েছেন—দুজনই শিবিরপন্থী প্যানেলের প্রতিনিধি।


সম্পাদক পদে শিবিরের প্রভাব


শিক্ষা ও গবেষণা, সাহিত্য ও প্রকাশনা, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ, নাট্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবহন ও যোগাযোগসহ বেশিরভাগ সম্পাদকীয় পদে শিবিরপন্থী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।


তবে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে ওঠে। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্লাহ শেখ জিসান এবং শিবিরপন্থী আলী জাকি শাহরিয়ার ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হাসান কিরন। অন্যদিকে সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন আহসাব লাবিব, যিনি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাসের প্রতিনিধি।


কার্যকরী সদস্যরা


কার্যকরী সদস্য পদে মোট ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ তিনজন ও নারী তিনজনই শিবিরপন্থী প্যানেলের প্রার্থী।


নির্বাচনের সার্বিক চিত্র


ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে, এবারের জাকসুতে শিবিরপন্থী প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তবে ভিপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয় নির্বাচনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস থেকেও একজন প্রার্থী জয়ী হওয়ায় কমিটি বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্বাচনের এই ফলকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে শিবিরপন্থী প্যানেলের আধিপত্য নিয়ে আলোচনা করছেন, আবার কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়কে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।