ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কে এই টাইলার রবিনসন?

কে জানত, এতটা রোগা-পাতলা একটা ছেলে, যে কেবল গাড়িতে আসা-যাওয়া করে, সে-ই এমন ভয়াবহ কাণ্ড করে ফেলতে পারে?
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
কে এই টাইলার রবিনসন? টাইলার রবিনসন

নাম টাইলার রবিনসন, খুবই মেধাবী একজন ছাত্র। রিপাবলিকান বাবা-মায়ের হাতে মরমন ধর্মাবলম্বী হিসেবে বেড়ে ওঠা রবিনসন কীভাবে ডানপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তি চার্লি কার্ক হত্যায় মূল অভিযুক্ত হলেন? ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, এই প্রশ্নটি ওয়াশিংটন এবং রবিনসনের পারিবারিক শহর ইউটাহ’র সবার মনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।


বৃহস্পতিবার রাতে ৩৩ ঘণ্টার ব্যাপক তল্লাশির পর গ্রেফতার হওয়া ২২ বছর বয়সী এই যুবক কার্ককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। রবিনসন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। এক বাঁকানো সড়কের পাশে মাঝারি একটি বাড়িতে তিনি বেড়ে উঠেছেন, যেখানে সাজানো বাগান ও পেছনের দিকে একটি গির্জা রয়েছে।


স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ক্রিস শোয়ারম্যান (৬৬) এএফপিকে বলেন, সে ‘শান্ত, ভদ্র ও নিজেকে নিয়েই থাকতো। কিন্তু সে অসাধারণ স্মার্ট।’ 


জাইদা ফাঙ্ক (২২) যিনি রবিনসনের সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনিও একই ধরনের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘সবসময় ভেবেছি, সে একদিন একজন ব্যবসায়ী বা সিইও হবে। এখন তার সম্পর্কে ভিন্ন কিছু জানতে পারছি। সে শান্ত স্বভাবের, তবে অদ্ভুত না। তার বন্ধু আছে এবং সে সব ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশেছে।’


২০২১ সালে হাই স্কুল থেকে ভালো ফলাফল করে স্নাতক পাশ করার পর, রবিনসন অল্প কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তারপর বাড়ির কাছের একটি কারিগরি কলেজে ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রামে ভর্তি হন।


রবিনসনের বাবা গ্রানাইট কিচেন কাউন্টার বিক্রি করেন, মা প্রতিবন্ধীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হিসেবে কাজ করেন। পরিবার মরমন চার্চের সদস্য হলেও সক্রিয় নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের পারিবারিক ছবি থেকে বোঝা যায়, তারা ভ্রমণ, ক্যাম্পিং ও শিকার করা পছন্দ করত।


কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রবিনসন একটি স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে একটি ছাদ থেকে চার্লি কার্ককে ঘাড়ে একটি মাত্র গুলি করে হত্যা করেন। রবিনসনের বাবা-মা রিপাবলিকান হলেও, রবিনসন নিজেকে নির্দলীয় হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে কোনো ভোট দেননি।


ইউটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স শুক্রবার সিএনএনকে বলেন, অভিযুক্ত এই ব্যক্তি ‘মোটামুটি অল্প সময়ের মধ্যে’ উগ্রপন্থী হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিনসন পরিবারের সদস্যদের কাছে কার্কের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং তার বাবা তাকে আত্মসমর্পণ করার জন্য অনুরোধ করেন।


কক্স বলেন, রবিনসন যে অস্ত্রটি ব্যবহার করেছেন বলে ধারণা করা হয়, সেটির অব্যবহৃত গুলির খোলসে কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে— যা তার রাজনৈতিক বিশ্বাস সম্পর্কে জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। একটি গুলির খোলসে ‘হেই, ফ্যাসিস্ট! ধর!’ লেখা ছিল, আর অন্যটিতে লেখা ছিল ‘বেলা চাও’— যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি ইতালীয় ফ্যাসিবাদ-বিরোধী গান। অন্যান্য গুলির খোলসে এমন প্রতীক ও শব্দ ছিল যা অনলাইন গেমিং সংস্কৃতির বলে মনে হয়।


রবিনসনের স্কুলের পুরনো বন্ধুরা বলেন, সে গেম খেলতে ভীষণ পছন্দ করত। বিশেষ করে ‘হালো’ আর ‘কল অব ডিউটি’র মতো ফার্স্ট-পারসন শুটার গেম তার খুব প্রিয় ছিল।


চলতি বছরের জানুয়ারিতে গাড়িপ্রেমীদের এক গ্রুপে রবিনসনের সঙ্গে জে’র পরিচয় হয়। জে জানায়, রবিনসন কখনো রাজনীতি নিয়ে কথা বলত না। ৪০ বছর বয়সী জে হতবাক হয়ে বলেন, ‘সে শুধু একজন দারুণ গাড়ি প্রেমিক লোক। আমরা শুধু শক্তিশালী ইঞ্জিনওয়ালা গাড়িগুলোর প্রতি আমাদের ভালোবাসা, গাড়ির শব্দ ও চালচলন নিয়ে কথা বলতাম।’


প্রতিবেশীদের কাছে রবিনসনের ধূসর রঙের চকচকে ডজ চ্যালেঞ্জার গাড়িটাই ছিল তার একমাত্র পরিচয়। সেন্ট জর্জের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকলেও তাকে নিয়ে কেউ তেমন কিছু জানত না। বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে জায়গাটা গাড়িতে মাত্র দশ মিনিটের পথ।


৫০ বছর বয়সী নার্স হিদার ম্যাকনাইট এক বছরের বেশি রবিনসনের প্রতিবেশী। তার চোখে রবিনসন একা-একা থাকা, গম্ভীর চেহারার মানুষ, যে খুব দ্রুত গাড়ি চালাতো। তিনি রবিনসন সম্পর্কে বলেন, ‘সে কখনো হাই বলত না। সে কথা বলতে বা প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে চাইতো না। তাকে আমার স্বাভাবিক মনে হতো না। তার মধ্যে অস্বাভাবিকতা আছে। কে জানত, এতটা রোগা-পাতলা একটা ছেলে, যে কেবল গাড়িতে আসা-যাওয়া করে আর সে-ই এমন ভয়াবহ একটা কাণ্ড করে ফেলতে পারে?’


সূত্র: এএফপি


এসজেড