ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভেনিজুয়েলার নৌযানে মার্কিন হামলা, জাতিসংঘের নিন্দা

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন সরকারগুলোকে অভিযুক্ত মাদক পাচারকারীদের হত্যা করার অনুমতি দেয় না।’
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ভেনিজুয়েলার নৌযানে মার্কিন হামলা, জাতিসংঘের নিন্দা হামলার ঠিক আগের ছবি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মঙ্গলবার ভেনিজুয়েলা থেকে আসা নৌযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিচারবহির্ভূত’ সামরিক হামলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।


জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলা থেকে আসা সন্দেহভাজন মাদক পাচারের নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক হামলায় ১৪ জন নিহত হয়। এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের তিন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন সরকারগুলোকে অভিযুক্ত মাদক পাচারকারীদের হত্যা করার অনুমতি দেয় না।’


এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, সোমবার ভেনিজুয়েলা থেকে আসা সন্দেহভাজন মাদক পাচারের একটি নৌকায় মার্কিন বাহিনীর নতুন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বাহিনী ১১ জন আরোহী নিয়ে ভেনিজুয়েলা থেকে আসা একটি নৌযানে গুলি চালানোর পরে এই ঘটনা ঘটে। 


ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে নৌযানটি ভেনিজুয়েলার গ্যাং ‘ট্রেন ডি আরাগুয়ার’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, তার দেশ ‘ভেনিজুয়েলা থেকে তিনটি নৌযান ধ্বংস করেছে’। তবে তিনি তৃতীয় নৌযান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি, কিংবা এই ঘটনায় আরও কেউ নিহত হয়েছে কি-না, সে বিষয়েও কিছু বলেননি।’


জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে তারা ১৪ জন নিহত ব্যক্তির ‘যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সব দেশকেই জীবনের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। এমনকি যখন তারা সমুদ্রে বা বিদেশী ভূখণ্ডে কাজ করে তখনও। সম্ভাব্য মারাত্মক শক্তির ব্যবহার কেবলমাত্র ব্যক্তিগত আত্মরক্ষা বা জীবনের জন্য আসন্ন হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য অনুমোদিত।’


মার্কিন সরকার আগের দুটি হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে, তাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা মাদক পাচারকারী। তারা যুক্তরাষ্ট্রে মারাত্মক মাদক পরিবহণ করতে চেয়েছিল। তবে, মার্কিন সরকার তার এই দাবি সমর্থন করার জন্য কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেনি আর মার্কিন আইনে মাদক পাচার মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধও নয়।


জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, ‘এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও সশস্ত্র আক্রমণ করছে— এমন কোনো প্রমাণ নেই।’ মার্কিন হামলাগুলো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ঘটেছে। যখন একটি বড় মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন নিয়ে গুজব চলে, ওয়াশিংটন হয়তো ক্যারাকাসে শাসন পরিবর্তন করতে চাচ্ছে।


বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুমোদন দেয় না যে বিদেশে একতরফাভাবে সন্ত্রাসবিরোধী বা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হোক। তারা বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে তার অবৈধ ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিশেষজ্ঞরা ওয়াশিংটনকে ‘স্বাধীনভাবে তদন্ত করার’ এবং ‘যারা এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন ও এটি বাস্তবায়ন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


সূত্র: এএফপি


এসজেড