চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর পেছনে অর্থায়ন করেছেন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কথিত এজেন্ট এনায়েত করিম চৌধুরী—এমন তথ্য মিলেছে গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে। শুরু থেকেই দল গঠন ও পরিচালনায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা অর্থ সহায়তা দিতেন।
ডিবি সূত্র জানায়, এনায়েত করিম নিজেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট দাবি করেছেন। তার বেতনভুক্ত সহযোগী হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন গোলাম মোস্তফা আজাদ, যিনি আগে একাত্তর টিভিতে কর্মরত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এনায়েতের সঙ্গে পুলিশের দুই ডিআইজি ও এক প্রভাবশালী সচিবের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ওই সচিবের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা রয়েছে, যেগুলো থেকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার চুক্তির বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে।
গত শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়ায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় এনায়েতকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতারের পর আদালত তাকে প্রথমে ৪৮ ঘণ্টা এবং পরবর্তীতে আরও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তার কাছ থেকে জব্দকৃত দুটি আইফোন থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, এনায়েত করিম বাংলাদেশে এসে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। তিনি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে নতুন সরকার গঠনের মিশনে যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের মতামত পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তার সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই’র সাবেক মহাসচিব লিটন এরশাদ।
অন্যদিকে, এনায়েত করিমের আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেল একজন বয়স্ক, অসুস্থ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। রিমান্ডে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছে, তাই নতুন করে রিমান্ডের প্রয়োজন নেই।
thebgbd.com/NIT