ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পানামা খালের বিকল্প হিসেবে তৈরি হচ্ছে রেল রুট

  • অনলাইন ডেস্ক | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পানামা খালের বিকল্প হিসেবে তৈরি হচ্ছে রেল রুট ফাইল ছবি

মেক্সিকো সরকার একটি বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার লক্ষ্য হলো রেল ও বন্দর সংযোগের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করা। এই উদ্যোগের ফলে এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী বাণিজ্যে পানামা খালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প তৈরি হতে পারে। এই নতুন বাণিজ্য রুটটি ইসথমাস অব তেহুয়ানতেপেক নামে পরিচিত।

নিক্কেই এশিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেক্সিকোর এই সংক্ষিপ্ত রেল রুট ব্যবহার করলে পানামা খাল বা কানাডার রুটের চেয়ে অনেক কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব। পানামা খালে প্রায়শই জলসংকট, যানজট এবং উচ্চ ব্যয়ের মতো সমস্যা দেখা যায়, যার ফলে শিপিং কোম্পানিগুলোকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মেক্সিকোর নতুন এই রুট চালু হলে সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই এই রুটটি ব্যবহার করে সফলভাবে পণ্য পরিবহন করেছে এবং এর সময় ও পরিচালন ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এরপরই আরেকটি বড় মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই রুট ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

মেক্সিকো সরকার এই করিডর ও বন্দর উন্নয়নে প্রায় ১০ হাজার কোটি পেসো (৫৪০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করছে। এর মূল অংশ হলো ৩০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ 'লাইন জেড' যা প্রশান্ত মহাসাগরের জেড সালিনা ক্রুজ থেকে মেক্সিকো উপসাগরের কোয়াটজাকোয়ালকোস পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই প্রকল্পটি শুধু বাণিজ্য সুবিধাই দেবে না, বরং দক্ষিণ মেক্সিকোতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং শিল্প ও লজিস্টিক হাব তৈরিতে উৎসাহিত করবে।

প্রকল্পটির সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পানামা খালের মতো বড় জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা অর্জন এবং অবকাঠামো সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকারিতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা কঠিন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এশিয়া-আমেরিকা বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিকল্প রুটের প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং মেক্সিকোর অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

thebgbd.com/NIT