পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে রোববার ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হওয়ায় ইরানিরা ব্যাপক চাপে পড়েছেন। নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ফলে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি ও ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দাম নতুন করে নিচে নেমে যাচ্ছে। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
তেহরানের ৩৩ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার হেলিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এরই মধ্যে দৃশ্যমান। তার নতুন বাড়ির আসবাবপত্রের দাম তিন দিনের মধ্যে বেড়ে গেছে।ডলারের দাম বাড়ার আগেই মাংস থেকে ট্যাক্সি সব জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। জীবনধারণ ইতোমধ্যেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পর ইরান সরকার এর পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালকে ‘অযৌক্তিক’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্যান্য দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ‘জাতীয় অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাজধানীজুড়ে নাগরিকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগের ছাপ দেখা গেছে। অনেকেই ভাবছেন জীবনযাত্রার আরও অবনতি হতে পারে। ৫৬ বছর বয়সী গবেষক নাসিম কোম্পানি বলেন, ‘আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। সাধারণ মানুষ এখনকার মতো জীবনযাপন করতে পারবে না।’ ১৯ বছর বয়সী মেহরশাদ বলেন, এই পদক্ষেপের পর ইরান ‘অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়বে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তান্তরের বিনিময়ে কেবল একটি সংক্ষিপ্ত অবকাশ দিয়েছে। তিনি এটাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
৭০ বছর বয়সী লেখক নাভিদ মোরাদি সরকারের ছাড় না দেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিল আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যেত এবং এর বিনিময়ে কিছু অর্জন করা যেত। সরকার যেটা বিশ্বাস করে, তারা তাদের নিজস্ব পথই অনুসরণ করে। কিন্তু জনগণের কী দোষ?
ইরানে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়েছে। নতুন করে রিয়ালের দাম কমে গেছে। ফলে অনেকেই জীবনযাত্রায় সংগ্রামের সম্মুখীন হচ্ছেন। মোরাদি বলেন, এক কেজি মাংস এখন ১ কোটি রিয়াল (প্রায় ১০ ডলার) হয়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ খরচ কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, একটি পরিবার কীভাবে বেঁচে থাকবে?
আয়রন মেইডেন টি-শার্ট পরা ১৯ বছর বয়সী ছাত্র আমির-আব্বাসের গিটারের দাম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দশগুণ বেড়েছে। ফলে তিনি তার পছন্দের কাজ থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেন, যখন এটি কিনেছি তখন এটি ৩০ মিলিয়ন রিয়াল ছিল। এখন এটি ৩০০ মিলিয়ন (৩০০ ডলারেরও কম)। কারণ আমরা আর আমদানি করতে পারছি না। তিনি ওষুধের দামের ওপর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গবেষক নাসিম কোম্পানি বহু বছর বিদেশে থাকার পর সম্প্রতি ইরানে ফিরে এসেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বহন করবে। তিনি বলেন, সবকিছুরই দাম বাড়বে। মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে না। এতে অপরাধ ও শিশুশ্রম বাড়তে পারে। আবার চলে যাওয়ার কথাও ভাবছি। তবে হেলিয়া তার আশাবাদী মনোভাব ধরে রেখেছেন। তিনি বলেন, আগে আমরা ১ লাখ রিয়াল দিয়ে ডলার পেতাম। এখন সেটা ১১ লাখ রিয়াল। তবুও আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আমরা আশায় বাঁচি।
সূত্র: এএফপি
এসজেড