মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাজমা ও সিওপিডি রোগীদের ব্যবহৃত ইনহেলার প্রতিবছর ৫ লাখ ৩০ হাজার গাড়ির সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করছে বলে জানিয়েছে এক নতুন গবেষণা।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন ধরণের ইনহেলারের জলবায়ু প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন।
গত সোমবার আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে (JAMA) প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বাণিজ্যিক বীমা, মেডিকেইড এবং মেডিকেয়ার প্রোগ্রামের আওতাধীন রোগীদের ব্যবহৃত ইনহেলার থেকে এই দশকে ২৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়েছে।
এর মধ্যে মিটারড-ডোজ ইনহেলার বা ‘পাফার’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। কারণ এটি মোট নির্গমনের ৯৮ শতাংশের জন্য দায়ী। এই ইনহেলারে ব্যবহৃত হাইড্রোফ্লোরো অ্যালকেন (এইচএফএ) প্রপেল্যান্ট এক ধরনের শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস।
অন্যদিকে ড্রাই পাউডার ইনহেলার ও সফট মিস্ট ইনহেলার প্রপেল্যান্টবিহীন। এগুলো পরিবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক কম ক্ষতিকর।
গবেষণার প্রধান লেখক ও ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম ফেল্ডম্যান বলেন, ‘প্রতি বছর পাঁচ লক্ষের বেশি গাড়ির সমপরিমাণ দূষণ একটি বড় সংখ্যা। এটা এমন একটি সমস্যা যা আমরা সহজেই সমাধান করতে পারি।’
তিনি এই ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘ইনহেলার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান কার্বন ফুটপ্রিন্টে যোগ হচ্ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত বহু রোগীকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাগতভাবে অল্প কিছু রোগীরই মিটারড-ডোজ ইনহেলারের প্রয়োজন হয়। ছোট শিশু ও দুর্বল বয়স্করা এসব ব্যবহার করতে বাধ্য হলেও, বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই পরিবেশবান্ধব ইনহেলার ব্যবহার সম্ভব।
ফেল্ডম্যান বলেন, সুইডেন ও জাপানের মতো দেশগুলোতে বিকল্প ইনহেলার ব্যবহারে কোনো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দেখা যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশবান্ধব ইনহেলারের ব্যবহার কম হওয়ার পেছনে রয়েছে বীমা কাঠামো ও বাজারের বাধা।
গবেষকরা রোগীদের দোষারোপ করছেন না, বরং নীতিগত ও মূল্যের সংস্কারের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, কিছু নতুন পরিবেশবান্ধব ইনহেলার বাজারে আসছে। তবে তা হতে পারে দামি ব্র্যান্ডেড পণ্য। কারণ সাশ্রয়ী বীমা না থাকা রোগীদের জন্য তা দুরূহ হয়ে উঠবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
thebgbd.com/NA