ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গাজা থেকে তোমাদের জন্য ভালোবাসা

খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের বাইরে লোকজন আনন্দে আত্মহারা হয়ে অন্যদের কাঁধে তুলে নিয়ে নাচা-নাচি করেছেন।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১০ অক্টোবর, ২০২৫
গাজা থেকে তোমাদের জন্য ভালোবাসা গাজায় উচ্ছাস।

বৃহস্পতিবার ইসরাইল ও হামাস দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর দক্ষিণ গাজার ফিলিস্তিনিরা ভোরের অন্ধকারে হাততালি, উল্লাস এবং নাচা-নাচিতে বিভোর। গাজার খান ইউনিস থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের বাইরে যখন একজন ব্যক্তি আনন্দে আত্মহারা হয়ে অন্য এক জনকে কাঁধে তুলে নিয়ে নাচা-নাচি করেছেন। তখন প্রায় এক ডজন তরুণের ভিড় আনন্দে ‘আল্লাহু আকবর’, যার অর্থ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, ধ্বনি দিয়েছেন। সাংবাদিকের প্রেস জ্যাকেট পরা একজন ব্যক্তিকে ভিড়ের ওপরে তুলে মাইক্রোফোনে কথা বলতে দেখা গেছে।


দক্ষিণ গাজার বাসিন্দা আবদেলমাজিদ আবেদরাব্বো বলেছেন, ‘এই যুদ্ধবিরতির জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ, রক্তপাত এবং হত্যাকাণ্ডের অবসানের জন্য ধন্যবাদ। একা খুশি নই, পুরো গাজাবাসী খুশি, সমস্ত আরব জনগণ যুদ্ধবিরতিতে খুশি। যারা আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে রক্তপাত বন্ধে ভূমিকা রেখেছেন এবং গাজা থেকে আপনাদের ভালোবাসা পাঠিয়েছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ এবং ভালোবাসা।’


ইসরায়েল এবং হামাস বৃহস্পতিবার গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে যা কয়েক দিনের মধ্যে অবশিষ্ট জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দিতে পারে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা এবং মানবিক সংকট সৃষ্টিকারী যুদ্ধের অবসানের একটি বড় পদক্ষেপ।


বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে ইসরায়েলকে কয়েকশ’ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর হামাসের অতর্কিত আক্রমণের ফলে শুরু হওয়া দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর গাজায় সাহায্যের আহ্বান জানানো হয়েছে।


- ‘আমরা খুশি’ -


আয়মান আল-নাজ্জার খান ইউনিসে এএফপি’কে বলেছেন, ‘সমস্ত আহত এবং হত্যাকাণ্ড এবং প্রিয়জন এবং আত্মীয় স্বজনদের হারানো সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতিতে আমরা আজ খুশি। আমার চাচাতো ভাইবোন এবং কিছু বন্ধুকে হারিয়েছি এবং এক সপ্তাহ আগে আমার প্রিয় দাদাকে হারিয়েছি। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক। কিন্তু আজ এবং এত কিছুর পরেও আমরা খুশি’।


- ‘অবর্ণনীয়’ -


যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত গাজার জন্য ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুসরণ করে। ওয়ায়েল রাদওয়ান বলেছেন, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। আমরা খুবই খুশি। ‘আমরা আমাদের ভাইদের এবং যারা এই যুদ্ধ এবং এই রক্তপাত বন্ধ করার জন্য শুধু কথা বলেও অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’


মধ্য গাজা উপত্যকার আল-মাঘজাইতে বাস্তুচ্যুত ২৬ বছর বয়সী খালেদ আল-নামনাম বলেছেন, তিনি এই খবরটি আশা করেননি। তিনি টেলিফোনে এএফপি’কে বলেছেন, ‘হঠাৎ, সকালে ঘুম থেকে উঠে অবিশ্বাস্যভাবে সুন্দর খবর পেলাম। সবাই যুদ্ধের সমাপ্তি, সাহায্য আসা এবং ক্রসিং খোলার কথা বলছে। অপরিসীম আনন্দ অনুভব করলাম। দুই বছর বোমা হামলা, ভয়, সন্ত্রাস এবং ক্ষুধার পর এটি একটি অদ্ভুত অনুভূতি যা অবর্ণনীয়। সত্যিই, মনে হচ্ছে আমরা আবার জন্মগ্রহণ করছি।’


সূত্র: এএফপি


এসজেড