ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আরও চারজন জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে হামাস। মরদেহগুলো গাজা থেকে ইসরায়েলে নিয়ে আসা হয়েছে। একদিন আগে হস্তান্তরিত মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
হামাস এই মরদেহগুলো রেড ক্রসের মাধ্যমে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। এটি গাজা উপত্যকায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘চারটি কফিনে মৃত জিম্মিদের মরদেহ সীমান্ত পেরিয়ে কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে।’ এই মরদেহগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এর আগে সোমবার, হামাস চারজন জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করে। যার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় শেষ ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হয়। এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত হয়। অন্যদিকে, গাজার একটি হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল কর্তৃক হস্তান্তরিত ৪৫ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহ পেয়েছে। যা ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার যাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়, তারা হলেন- ইসরায়েলি নাগরিক গাই ইলুজ, ইয়োসি শরাবি, ড্যানিয়েল পেরেতজ এবং নেপালি কৃষি শিক্ষার্থী বিপিন জোশি। ৫৩ বছর বয়সি শরাবি হামাসের আক্রমণের সময় কিবুটজ বেইরি থেকে অপহৃত হন। ২২ বছর বয়সী পেরেতজ ওই হামলার দিন নিহত হন এবং তার মরদেহ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। হোস্টেজ অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম নামক প্রচার গ্রুপের মাধ্যমে শরাবির স্ত্রী নিড়া বলেন, ‘দুই বছর আগে শুরু হওয়া দুঃস্বপ্নের এখন অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এখন আমরা ইয়োসিকে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে দাফন করতে পারবো।’
২৬ বছর বয়সী গাই ইলুজ হামলার সময় নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে অংশ নিচ্ছিলেন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইলুজকে আহত অবস্থায় জীবিত অপহরণ করা হয়। কিন্তু পরে বন্দী অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে আঘাতের কারণে তিনি মারা যান। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
সূত্র: এএফপি
এসজেড