ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাফা ক্রসিং বন্ধ

গাজার একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার রাফা সীমান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
রাফা ক্রসিং বন্ধ অপেক্ষমান ত্রানবাহী ট্রাক।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ ফিলিস্তিনি। এরমধ্যেই রাফা সীমান্তও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এর ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  খবর রয়টার্সের।


গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও বন্ধ হয়নি ইসরায়েলি আগ্রাসন। গত ১০ অক্টোবর চুক্তি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৭ বার লঙ্ঘন করেছে তেলআবিব। গোলাবর্ষণ, টার্গেট হামলা ও বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে স্থানীয় প্রশাসন। ফিলিস্তিনি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ট্যাংক, ড্রোন ও সেনা যান।


গাজার শেজাইয়া, আল-তুফাহ ও যায়তুনে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে নেতানিয়াহু বাহিনী। খান ইউনিস থেকেও সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি। এমনকি বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনে এখনও ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।


এই অবস্থার মধ্যে গাজার একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার রাফা সীমান্ত খোলা রাখার কথা থাকলেও তা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, হামাস এখনো সব মৃত জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয়নি, তাই সীমান্ত খোলা সম্ভব নয়।


ফিলিস্তিনি দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত সোমবার থেকে রাফা খুলে দেয়ার কথা। কিন্তু নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে তা স্থগিত হয়ে যায়। স্বাধীনতাকামী সংগঠনের দাবি করেছে যে রাফাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন।


রাফা সীমান্ত পুনরায় খোলা ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করে গাজার মানবিক সংকট কিছুটা লাঘব করা।


হামাস শনিবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল রাফাহ সীমান্ত বন্ধ রাখলে বন্দিদের মরদেহ হস্তান্তর বিলম্বিত হবে। এদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় শনিবার রাতে গাজায় আরও দুই ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে হামাস। 


এদিকে গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েল। রোববার (১৯ অক্টোবর) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে জায়নিস্ট বাহিনী এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো রাফা ও দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর দিচ্ছে। 


ইসরাইলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ এবং সেনা কর্মকর্তারা এক ফোনালাপে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ‘গুলি বিনিময়’-এর পর এই হামলা চালানো হয়। 


ইসরায়েলি মিডিয়ার দাবি, দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় ‘সন্ত্রাসী তৎপরতার’ জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানায়, রাফায় সামরিক যান বিস্ফোরণে ইসরায়েলের দুই সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।  


ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ‘আসন্ন হামলার প্রস্তুতি’ নিচ্ছে। বিবৃতিতে হামাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি দখলদারদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সঙ্গে মিলে যায় এবং এটি ইসরায়েলের চলমান সংগঠিত অপরাধ ও আগ্রাসনের জন্য রাজনৈতিক আড়াল তৈরি করে।


হামাসের দাবি, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল নিজেরাই সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠী গঠন, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়ন করছে—যারা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের হত্যা, অপহরণ, ত্রাণবাহী ট্রাক লুট ও সম্পদ চুরিতে জড়িত। এসব অপরাধে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিজস্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।  


হামাস জানায়, গাজার পুলিশ বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অপরাধী চক্রকে শনাক্ত ও বিচার করার কাজ চলছে, যাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায়, ইসরায়েলের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধে তেলআবিবকে নিয়ন্ত্রণে আনতে। বিবৃতির শেষে হামাস পুনর্ব্যক্ত করে, তারা ফিলিস্তিনি জনগণের নিরাপত্তা, সংগঠিত আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।


সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা


এসজেড