মেট্রোরেলে অভিনব কৌশলে ভাড়া ফাঁকি দিয়ে চলাচল করছে সংঘবদ্ধ চক্র। সন্দেহজনক প্রবেশ ও বহির্গমন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, এক মাসেই বিনা ভাড়ায় পাঁচ লাখ টাকার ভ্রমণ করেছে চক্রের সদস্যরা। এ কারণে ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছাড়া স্টেশনে ঢুকলে একশ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
গড়ে প্রতিদিন মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন সাড়ে চার লাখ যাত্রী। এত মানুষের ভিড়ে রয়েছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করছে মাসের পর মাস। মেট্রোরেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডিএমটিসিএল বলছে, অভিনব কায়দায় ভাড়া ছাড়াই যাতায়াত করেছে একদল লোক। এজন্য শুরুর স্টেশনে থাকে একটি দল, আরেকটি দল থাকে গন্তব্য স্টেশনে।
শুরুর স্টেশনে কার্ড ব্যবহার করে ঢোকেন একজন। পরে সেই কার্ডটি আরেকজনের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি সেই কার্ড ব্যবহার করে স্টেশন থেকে বেরিয়ে যান। ফলে কোনো ভাড়া কাটে না। একই ব্যবস্থা থাকে গন্তব্য স্টেশনেও। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, গত এক মাসে ৬০ জন ব্যক্তি প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। তাদের কর্মকাণ্ড এমন যে, একবার ঢুকে আবার বের হয়। তবে অফিসিয়ালি বের হয় না; কার্ডটা পাঞ্চ করে সে ভিতরেই থেকে যায়, বের হচ্ছে না। ফলে তারা বিনা খরচে ৪০ থেকে ৬০টি কার্ড ব্যবহার করে গত তিন মাস ধরে একইভাবে সিস্টেমের সুযোগ নিচ্ছে।
ডিএমটিসিএল সন্দেহজনক কার্ডের প্রবেশ ও বহির্গমন বিশ্লেষণ করে একটি ভাড়া ফাঁকি দেয়ার চক্র চিহ্নিত করেছে। অন্তত ৬০টি কার্ড ব্লক করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, এই চক্র গত তিন মাস ধরে সক্রিয় ছিল এবং এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ধরতে সময় লেগেছে, তবে এরই মধ্যে দুজনকে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট জেনারেট ও তদন্তের পর ওই ৬০টি কার্ড ব্লক করা হয়েছে।
কার্ড ব্যবহার করে স্টেশনে প্রবেশের পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে গেলে কোনো ভাড়া দিতে হয় না- এই সুযোগ নিয়েই বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করেছে চক্রটি। তবে ২০ অক্টোবর থেকে এই ফাঁক-ফোঁকর বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মেট্রোরেলে একই স্টেশনে টিকিট কেটে একবার প্রবেশ করার পর যে কোনো কাজে বের হতে গেলেই কাটা হচ্ছে ১০০ টাকা জরিমানা।
তবে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা। তারা বলছেন, আগাম বার্তা দেয়া হয়নি। অযৌক্তিকভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। মানুষের যে কোনো প্রয়োজন হতে পারে; কেউ মারা যেতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া উচিত ছিল।
সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বিবেচনায় জরিমানা কমিয়ে আনার আভাস দেন ডিএমটিসিএল এমডি ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ পেলে জরিমানা কমিয়ে আনার কথা চিন্তা করা হবে।
মুষ্টিমেয় অপরাধীদের জন্য বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভোগান্তি এড়াতে জরিমানার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান যাত্রীরা।
thebgbd.com/NIT