ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় দাদিকে হত্যা, নাতি গ্রেপ্তার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় দাদিকে হত্যা, নাতি গ্রেপ্তার ফাইল ছবি

রংপুরের পীরগঞ্জে দাদিকে হত্যার অভিযোগে নাতি অনিক হাসান হৃদয়কে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে ঢাকা সাভারের হেমায়েতপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে বড়ঘোলা গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে।

মামলার বাদীর ভাষ্যমতে, দাদিকে তার নাতি প্রশ্ন করেছিলো ‘তোমার রব কে?’ দাদি এর উত্তর দিতে না পারায় কুপিয়ে হত্যা করে নাতি।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে গ্রেপ্তার হৃদয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি বড়মজিদপুরের রফিকুলের পরিত্যক্ত রাইচ মিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।

স্বজনরা জানান, আকলিমা বেগম তারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনে পৃথক ঘরে রাত্রিযাপন করত। শনিবার ভোর রাতের দিকে নিহতের স্বামী আব্দুল হাকিম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে আসলে স্ত্রীর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়।

তিনি ঘরে প্রবেশ করে গলা কাটা অবস্থায় স্ত্রীর নিথর দেহ খাটের ওপরে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে উঠেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দুই ছেলে রাশেদুল ও শাহিন ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে আকলিমা বেগমের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। ওই দিনই অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহতের ভাই রায়পুর ইউপির নখারপাড়ার ওবায়দুল হত্যা মামলা রুজু করেন।

নিহতের দু’ছেলে রাশেদুল ও শাহিন জানান, তারা রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় ঘোলা গ্রামের বাসিন্দা। ৮/১০ বছর আগে বড় মজিদপুরে পৃথক বাড়ি নির্মাণ করে বাবা-মা সেখানে বসবাস করেন। আমরা বাস্তুভিটা বড়ঘোলায় দুই ভাই বসবাস করি। ছোট বোন পারভিন আক্তার বৈবাহিক সূত্রে স্বামীর বাড়ি পীরগঞ্জ সদরের রামপুরায় থাকে। কারও সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। বাবা-মা ছাড়া ওই বাড়িতে কেউ থাকে না।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া হৃদয় নিহত আকলিমা বেগমের নাতি, বড় ছেলে রাশেদুল ইসলামের ছেলে। হৃদয় শুক্রবার রাত ১টার দিকে ঢাকা থেকে হানিফ পরিবহনযোগে খেজমতপুরে নেমে পড়ে। রাতেই দাদা-দাদির গ্রামে আসে। দাদি আকলিমার সঙ্গে রাতের খাবারের পর খোশগল্পের একপর্যায়ে তর্কে জড়িয়ে পড়লে দাদিকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।  

thebgbd.com/NIT