সাভারের খাগান এলাকায় অবস্থিত সিটি ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় রাতভর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ থামলেও এখনো থমথমে অবস্থা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার সিটি ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সংঘর্ষে আহত অনেক শিক্ষার্থী আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিটি বিশ্বিবদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করে হামলায় জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।
আজ সোমবার সকালে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কাচের টুকরা আর ভাঙা আসবাবপত্র। পুরো অচলাবস্থা ভবনজুড়ে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় ১৫টি গাড়িতে।
সংঘর্ষ থামলেও সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় দুটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা। আতঙ্কে হল ছাড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় সকালে সিটি বিশ্বিবদ্যালয় পরিদর্শনে আসে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্ষমা প্রদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন তারা।
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন বিমল চন্দ্র দাস বলেন, সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য দায়ীদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাই। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবশ্যই ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। ড্যাফোডিলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটকে রেখেছে এখানকার ছাত্ররা। তাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।
পরে সংবাদ সম্মেলনে সিটি বিশ্বিবদ্যালয়ের ভিসি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রফেসর ডক্টর লুৎফর রহমান বলেন, ড্যাফোডিল বিশ্বিবদ্যালয়ের ১১জন শিক্ষার্থী তাদের হেফাজতে রয়েছে। বিশ্বিবদ্যালয়টির ভিসির সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
এদিকে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মোহাম্মদ আবু জায়েদ বলেন, ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত না হলে এমন নৃশংসতা চালানো সম্ভব হতো না। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় দুই বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হয় সংঘর্ষ। প্রায় ৭ ঘণ্টার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।
thebgbd.com/NA