ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাজ উপাধি হারাচ্ছেন অ্যান্ড্রু

প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার উপাধি ত্যাগ করার সময় যুক্তরাজ্যের সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে এবং সরকার এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
রাজ উপাধি হারাচ্ছেন অ্যান্ড্রু প্রিন্স অ্যান্ড্রু

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস তার ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিচ্ছেন এবং উইন্ডসর এস্টেটের রাজকীয় বাড়ি থেকে তাকে বহিষ্কার করছেন। বৃহস্পতিবার বাকিংহাম প্রাসাদ এ তথ্য জানিয়েছে। জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত বিতর্কিত এই রাজপুত্রের ওপর এটি সর্বশেষ আঘাত। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


বাকিংহাম প্রাসাদ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রিন্স অ্যান্ড্রু এখন থেকে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর নামে পরিচিত হবেন।’ চার্লস তার ভাইয়ের সমস্ত উপাধি অপসারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। অ্যান্ড্রুকে উইন্ডসর ক্যাসেল এলাকায় তার দীর্ঘদিনের বাড়ি থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে এবং তিনি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বিকল্প ব্যক্তিগত বাড়িতে চলে যাবেন।


বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তগুলো প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


ভার্জিনিয়া জিওফ্রে তার মরণোত্তর স্মৃতিকথায় তিনি অভিযোগ করেন, তাকে তিনবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য পাচার করা হয়, যার মধ্যে দু’বার মাত্র ১৭ বছর বয়সে হয়েছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার উপাধি ত্যাগ করার সময় যুক্তরাজ্যের সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে এবং সরকার এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে।


ভার্জিনিয়া গত এপ্রিলে ৪১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। তার পরিবার অ্যান্ড্রুর প্রিন্স পদবি প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়, বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আজ, তারা এটিকে একটি বিজয় হিসেবে ঘোষণা করছেন’।


তারা বলেছেন, ‘একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারের একজন সাধারণ মেয়ে তার সততা এবং অসাধারণ সাহস দিয়ে একজন ব্রিটিশ রাজপুত্রকে পরাজিত করেছেন। ভার্জিনিয়া রবার্টস জিওফ্রে, আমাদের বোন, অ্যান্ড্রুর যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার সময় শিশু, তার এবং তার মতো অসংখ্য বেঁচে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে যা ঘটেছে তার জবাবদিহিতার জন্য লড়াই করা বন্ধ করেনি।’


প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র অ্যান্ড্রু বারবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি ২০২২ সালে মার্কিন ও অস্ট্রেলীয় নাগরিক ভার্জিনিয়াকে ১২ মিলিয়ন বা এক কোটি ২০ লাখ পাউন্ড (এক কোটি ৬৩ লাখ ডলার) দিতে সম্মত হন, যাতে তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের দেওয়ানি মামলা শেষ করা যায়।


সূত্র: এএফপি


এসজেড