ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে বুধবার ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। সেবু প্রদেশ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। টাইফুনের ফলে সৃষ্ট স্মরণকালের ভয়াবহতম ওই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেবু প্রদেশের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। নজিরবিহীন বন্যার পানি নগরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যার পানির স্রোতের তোড় গাড়ি, ট্রাক— এমনকি বিশাল শিপিং কন্টেইনারগুলোকেও ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
বুধবার, সেবুর মুখপাত্র রোন রামোস বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান প্রাদেশিক রাজধানী সেবু সিটির মেট্রো এলাকার অংশ লিলোয়ানের প্লাবিত এলাকা থেকে ৩৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ভয়াবহ খবরে সেবুতে মৃতের সংখ্যা ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন, জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা উপ-প্রশাসক রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রো অন্যান্য প্রদেশে কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আলেজান্দ্রো বলেন, প্রধান শহরগুলোর আধুনিক এলাকাগুলো বন্যার কবলে পড়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ২৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। বন্যা কমে গেছে। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের রাস্তা আটকে দেওয়া ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ চারমাগনে ভারিলা এএফপিকে জানান, কালমেগি সৃষ্ট ভূমিধ্বসের ২৪ ঘন্টা আগে, সেবু নগরীর আশেপাশের এলাকা ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়, যা মাসিক গড়ে ১৩১ মিলিমিটারেরও বেশি।
মঙ্গলবার, প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার পানি কেবলই ধ্বংসাত্মক। আমরা আশঙ্কা করেছি, কেবল বাতাস বিপজ্জনক হবে। কিন্তু বন্যার পানি আমাদের জনগণকে সত্যিই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়গুলো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। উষ্ণ সমুদ্র টাইফুনগুলোকে দ্রুত শক্তিশালী হতে দেয় এবং উষ্ণ বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ভারী বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে।
টাইফুনের আঘাত থেকে বাঁচাতে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত, টাইফুন কালমেগি পশ্চিম দিকে পালাওয়ানের পর্যটন কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং ১৬৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল।
ফিলিপাইনে প্রতি বছর গড়ে ২০টি ঝড় এবং টাইফুন নিয়মিতভাবে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ভারিলা এএফপিকে বলেন, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ কমপক্ষে ‘তিন থেকে পাঁচটি’ ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনে দুটি বড় ঝড় আঘাত হানে। যার একটি সুপার টাইফুন রাগাসা। শক্তিশালী ঝড়টির আঘাতে তাইওয়ানের কাছে ভবনের ছাদ ভেঙে ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
সূত্র: এএফপি
এসজেড