হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, ইসরায়েলকে ছাড় দিতে লেবাননের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তার বিনিময়ে কোনও প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বৈরুত থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
কাসেম বলেন, প্রতিদান বা গ্যারান্টি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের দেশকে ছাড় দিতে বাধ্য করছে। কারণ, তারা ইসরায়েলকে অবাধ ক্ষমতা দিতে চায়। হিজবুল্লাহর নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানারে দেওয়া এক ভাষণে কাসেম আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে চলা বা তাদের শর্ত বাস্তবায়ন করা সরকারের কাজ নয়।
ওয়াশিংটন হিজবুল্লাহর অর্থায়নের উৎস বন্ধ করার পাশাপাশি লেবানন সরকারকে দলটির অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্যও চাপ দিচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসরায়েলের হামলা এখনও চলছে। ওই যুদ্ধে হিজবুল্লাহ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
রোববার ও সোমবার লেবাননের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন অর্থ বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল হিজবুল্লাহর ইরানি অর্থায়ন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানায়। মার্কিন প্রশাসন হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের অর্থ সহায়তা বন্ধে ‘খুব গুরুত্বের সঙ্গে’ কাজ করছে বলে সোমবার সাংবাদিকদের জানান সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের উপ পরিচালক জন হার্লে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ইরান হিজবুল্লাহকে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, হিজবুল্লাহর অর্থের উৎস বন্ধে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে লেবানন সরকারকে ‘স্পষ্ট ও কড়া বার্তা’ দিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদল।
যুদ্ধে হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন এবং সংগঠনের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে, লেবাননের রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর প্রভাব কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তবুও দলটি তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কাসেম আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অস্ত্র কখনও ছাড়ব না। এই অস্ত্রই আমাদের শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক।’
সূত্র: এএফপি
এসজেড