ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শেষ ২ জিম্মির লাশ ফেরতের দাবি

বিক্ষোভকারীরা গভিলি ও রিনথালাকের মুখ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ‘দিন ৭৮৫, আমরা কাউকে পিছনে রাখি না’ লেখা প্ল্যাকার্ড ধরে ছিল।
  • অনলাইন ডেস্ক | ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
শেষ ২ জিম্মির লাশ ফেরতের দাবি জিম্মি পরিবারের বিক্ষোভ।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শনিবার গাজায় আটক শেষ ইসরায়েলি জিম্মির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কার্যালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা শেষ দুটি লাশ ফেরত দেওয়ার দাবি জানায়। ইসরায়েলের ইয়াসাম এলিট পুলিশ ইউনিটের ২৪ বছর বয়সী কর্মকর্তা রান গভিলি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহত হন। গভিলির লাশটি গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। 


ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার নেতানিয়াহু ‘তার বাবা-মা তালিক ও ইতজিককে তার লাশের প্রত্যাবর্তনের জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টা এবং তাক লাশকে যথাযথ ইহুদি সমাধিস্থলে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প সম্পর্কে অবহিত করেন।’


বিৃবতিতে আরও বলা হয়, নেতানিয়াহু ইসরায়েলে নিযুক্ত থাই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং গাজায় একমাত্র নিহত থাই নাগরিক সুধথিসাক রিনথালাকের লাশটি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেছেন। ইসরায়েল সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী ‘তার (সুধথিসাক) লাশটি ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’ খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।


৪৩ বছর বয়সী রিনথালাক গাজা উপত্যকার কাছে বিরি কিব্বুতজে বাগানে কাজ করতেন এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় নিহত বেশ কয়েকজন থাই শ্রমিকের মধ্যে একজন। এদের লাশ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। 


গাজায় বন্দি ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান দল হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম শনিবার তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কোয়ারে একটি সমাবেশের আয়োজন করে। এ সময় তারা জিম্মি ও গাজায় আটকে থাকা লাশের আত্মীয়দের উদ্দেশ্যে— ‘আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’ বলে স্লোগান দেয়।


এটি ছিল সমস্ত জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার জন্য নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সাপ্তাহিক সমাবেশের সর্বশেষতম আয়োজন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘তোমরা একা নও, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’— বলে স্লোগান দেয়। 


তারা গভিলি ও রিনথালাকের মুখ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ‘দিন ৭৮৫, আমরা কাউকে পিছনে রাখি না’ লেখা প্ল্যাকার্ড ধরে ছিল। 


সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের একজন ৭২ বছর বয়সী মিশাল ইয়ানিভ বলেন, ‘পরিবারগুলোর জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা বারবার আসছি, যাতে তারা অনুভব করতে পারে যে আমরা তাদের সঙ্গে আছি। আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি। কেউ কেউ ফিরে এসেছে বলেই আমরা আসা বন্ধ করব না।’ 


ইয়ানিভ আরও বলেন, ‘যখন জিম্মিরা ফিরে আসবে, তখন আমি ৭ অক্টোবর আমাদের ওপর যে সরকার হামলা চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করব এবং তারা তা স্বীকার করবে না। নেতানিয়াহু এখনও স্বীকার করছেন না, এই ঘটনার জন্য তিনিই দায়ী।’


১০ অক্টোবর মার্কিন মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলী অনুসারে, হামাস তাদের বন্দী ৪৮ জন জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত। তারা এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে ফিরিয়ে দিয়েছে, যার মধ্যে এক দশকেরও বেশি সময় আগে অপহৃত এক নিহত সেনার মৃতদেহও রয়েছে। 


সমাবেশে ৫৩ বছর বয়সী পণ্য ব্যবস্থাপক নোয়া জিভ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এই দুই বছর আমরা ধারাবাহিকভাবে এখানে আসার ফলে জিম্মিদের মুক্তিতে অনেক অবদান রেখেছে। আমরা আশা করছি এটি শিগগিরই শেষ হবে। আমরা এর চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি এবং এটি শেষ হবেই।’


সূত্র: এএফপি


এসজেড