ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গুয়াতেমালায় সংঘর্ষে নিহত ১৩

ঘটনার পর নাহুয়ালায় দুই দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার থেকেই নিহতদের সৎকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
গুয়াতেমালায় সংঘর্ষে নিহত ১৩ নিহতদের লাশ কবর দেওয়া হচ্ছে।

গুয়াতেমালার আদিবাসী অধ্যুষিত শহর নাহুয়ালায় সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র। 

রোববার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বক্তব্যে নাহুয়ালার মেয়র ম্যানুয়েল গুয়ারচাখ এই ঘটনার জন্য আংশিকভাবে দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন।


রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত নাহুয়ালায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো রোববার ওই অঞ্চলে বিশেষ জরুরি অবস্থা জারি করেন।


নাহুয়ালা ও পার্শ্ববর্তী মায়া জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত সান্তা কাতারিনা ইক্সতাহুয়াকান দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সীমান্ত বিরোধে জড়িয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।


প্রেসিডেন্ট আরেভালো দাবি করেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে সহিংসতাকে আরও উসকে দিচ্ছে, যাতে করে সেনাবাহিনীকে এলাকা থেকে প্রত্যাহারে বাধ্য করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট আরেভালো জানান, তিনি সোলোলা বিভাগে ১৫ দিনের জন্য ‘স্টেট অব প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।


যেখানে এই দুটি সম্প্রদায় বাস করে। এই আদেশের ফলে ওই এলাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভের স্বাধীনতাসহ কিছু মৌলিক অধিকার সীমিত করা যাবে। আরেভালো বলেন, ‘সোলোলা বিভাগের জন্য এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য আমরা এক সংকটজনক মুহূর্তে আছি। অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর স্পষ্ট লক্ষ্য হলো, এলাকা দখল করে নির্বিঘ্নে চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ সব সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র ‘সম্প্রদায়গত সংঘাতকে কৌশলে কাজে লাগাচ্ছে’।


আরেভালো আরও জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে অপরাধী গোষ্ঠীগুলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে টানা ১০ ঘণ্টার বেশি সময় একটি সামরিক চৌকিতে হামলা চালায়। তাদের ওই হামলায় সাত জন সেনা সদস্য আহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে কোনো সংঘর্ষ ছিল না। বরং, এটি ছিল সেনা চৌকির ওপর একটি পরিকল্পিত হামলার ঘটনা।’ অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে ভেঙে দিতেই এই ‘স্টেট অব প্রিভেনশন’ জারি করা হয়েছে।


নাহুয়ালার মেয়র গুয়ারচাখ বলেন, ‘গুয়াতেমালার সেনাবাহিনী ও সান্তা কাতারিনা ইক্সতাহুয়াকানের কিছু লোকের চালানো এক অতর্কিত হামলায় ১৩ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এখানে কোনো মনগড়া কথা বলছি না। আমি শুধু সত্যটাই তুলে ধরছি।’ তিনি জানান, নিহতদের বয়স ১৪ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে এবং তারা স্থানীয় একটি পাথর খনিতে কাজ করার সময় এই হামলার শিকার হয়। এই ফোনালাপের সময় তিনি নিহতদের নাম ও বয়সও পড়ে শোনান।


ঘটনার পর নাহুয়ালায় দুই দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার থেকেই নিহতদের সৎকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


এর আগে বৃহস্পতিবার দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় চার জন সেনা আহত হন। এই সীমান্ত বিরোধের সঙ্গে বনাঞ্চল ও পানিসম্পদ সংরক্ষিত এলাকাও জড়িত। দীর্ঘদিনের এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে এর আগেও একাধিকবার অবরোধ বা জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে, যদিও সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 


২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্যতম ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়। ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মধ্যে তিন জন শিশু ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন।


সূত্র: এএফপি


এসজেড