ইয়েমেনের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শুক্রবার দুই বছরের মধ্যে স্বাধীন করার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ ইয়েমেনজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযানের লাগাম টানতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্র জানায়, দুটি সামরিক ঘাঁটিতে চালানো বিমান হামলায় ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এসময় একটি বিমানবন্দর ও আরও কয়েকটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
এই বোমাবর্ষণ ও আকস্মিক স্বাধীনতা ঘোষণার পেছনে রয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা। বিশেষ করে, দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর সাম্প্রতিক ভূখণ্ড দখল অভিযানকে কেন্দ্র করেই দুই মিত্র দেশের মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হয়ে উঠেছে।
১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই অংশে বিভক্ত ছিল। এসটিসি’র স্বাধীনতা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই বছরের মধ্যেই দেশটি আবার বিভক্ত হতে পারে। নতুন রাষ্ট্রের নাম হবে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’।
এসটিসি’র প্রেসিডেন্ট আইদারোস আলজুবাইদি বলেন, এই রূপান্তরকালীন পর্যায়ে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সংলাপ হবে, যা বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটেরও আয়োজন করা হবে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো সংলাপ না হয় বা আবার দক্ষিণ ইয়েমেনে হামলা চালানো হয়, তাহলে এসটিসি ‘অবিলম্বে’ স্বাধীনতা ঘোষণা করবে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আলজুবাইদি বলেন, ‘দক্ষিণ ও উত্তর ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ আয়োজনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে কাউন্সিল।’ গত মাসে এসটিসি বাহিনী তেমন কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই সৌদি আরব সীমান্তঘেঁষা সম্পদ সমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশের বড় অংশ ও ওমান সীমান্তবর্তী মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
সূত্র: এএফপি
এসজেড