অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পসংস্কৃতি উৎসব ‘অ্যাডিলেড ফেস্টিভ্যাল’ এবার বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। এক ফিলিস্তিনি-অস্ট্রেলীয় লেখককে বাদ দেওয়ার পর একের পর এক শিল্পী সরে দাঁড়াচ্ছেন, বোর্ড সদস্যরা পদত্যাগ করছেন। সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
আমন্ত্রিত শিল্পীদের বড় একটি অংশ উৎসব থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে উৎসবের চেয়ারপারসনসহ বোর্ডের বেশ কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, উৎসব থেকে বাদ পড়া ওই লেখকের আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি গত সপ্তাহে বিতর্কের মুখে পড়ে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত লেখক ড. রান্দা আবদেল-ফাত্তাহকে উৎসবের ‘রাইটার্স উইক’-এ না রাখার সিদ্ধান্ত জানায় কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে উৎসব কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘আমরা কোনোভাবেই বলতে চাইছি না যে ড. রান্দা আবদেল-ফাত্তাহ বা তার লেখার সঙ্গে বন্ডি ট্র্যাজেডির কোনো সম্পর্ক আছে। তবে তার অতীতের কিছু মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমাদের মনে হয়েছে, বন্ডি হামলার পরবর্তী এ সময়ে তাকে অনুষ্ঠানে রাখা সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল হবে না।’
তবে বাদ পড়া লেখক ও শিক্ষাবিদ রান্দা আবদেল-ফাত্তাহ এই সিদ্ধান্তকে ‘ফিলিস্তিনি-বিদ্বেষী বর্ণবাদের নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাকে বন্ডি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার এটি একটি জঘন্য অপচেষ্টা।’ তার আইনি প্রতিনিধি ‘মার্ক লয়ার্স’ গত রোববার উৎসব কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। সেখানে রান্দার ঠিক কোন বক্তব্যগুলো তাকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
ল ফার্মটির ম্যানেজিং পার্টনার মাইকেল ব্র্যাডলি বলেন, উৎসব কর্তৃপক্ষ রান্দার মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে এবং এর দায়ভার বোর্ডকেই নিতে হবে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রান্দার একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেখানে তিনি লিখেন, ‘লক্ষ্য হলো উপনিবেশমুক্ত হওয়া এবং এই খুনি জায়নবাদী উপনিবেশের অবসান ঘটানো।’
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লেখক রান্দাকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই উৎসব থেকে এ পর্যন্ত ৭০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গ্রিসের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও লেখক ইয়ানিস ভারুফাকিস অন্যতম। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তার আমন্ত্রণপত্রটি ছিঁড়ে ফেলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার বোর্ডের এক বিশেষ সভায় তিনজন সদস্য পদত্যাগ করেন। এরপর রোববার উৎসবের চেয়ারপার্সন ট্রেসি হোয়াইটিং তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এদিকে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার পিটার ম্যালিনাসকাস জানান, বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার আইনি ক্ষমতা তার নেই। তবে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত মত জানতে চাওয়া হলে স্পষ্ট করে দিয়েছি, রাইটার্স উইক অনুষ্ঠানে ড. আবদেল-ফাত্তাহর উপস্থিতিকে রাজ্য সরকার সমর্থন করে না।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যাডেলেড ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইট থেকে অংশগ্রহণকারী ও ইভেন্টের তালিকা সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সূচিতে পরিবর্তনের কাজ চলছে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড