ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডে ভূমিধসে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি

ভারী বৃষ্টির পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ক্যাম্পসাইটটি ঢেকে যায়। তিনটি যান্ত্রিক খননযন্ত্র ব্যবহার করে সারা রাত উদ্ধার তৎপরতা চলে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
নিউজিল্যান্ডে ভূমিধসে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি ভূমিধসের শিকার একটি ইউভি।

নিউজিল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে একটি জনপ্রিয় ক্যাম্পসাইটে বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে ধসে পড়া মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়াদের খুঁজতে শুক্রবার গভীর কাদা খুঁড়ে উদ্ধার কাজ চালান জরুরি সেবা কর্মীরা। নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মাউঙ্গানুই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে একটি কিশোরী রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের একটি অংশ ধসে পড়লে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ওপর আছড়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে শাওয়ার ব্লক। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্যাম্পার ভ্যান ও কারাভ্যান। পুলিশ জানায়, ক্যাম্পসাইটে ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত নয়। তবে সংখ্যা ‘এক অঙ্কের মধ্যেই’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও জরুরি কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের আর্তনাদ শোনা যায়। এরপর আর কোনো শব্দ শোনা যায়নি। উত্তর দ্বীপে ভারী বৃষ্টির পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ক্যাম্পসাইটটি ঢেকে যায়। তিনটি যান্ত্রিক খননযন্ত্র ব্যবহার করে সারা রাত উদ্ধার তৎপরতা চলে। সকালে এক পর্যায়ে উদ্ধার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা এক এএফপি প্রতিবেদক দেখেন, পুলিশ ফটোগ্রাফার ডাকা হয়। পরে একটি লাশবাহী গাড়ি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সড়কের ওপার থেকে প্রায় দুই ডজন স্বজন উদ্ধার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। বিধ্বস্ত কারাভ্যান ও ক্যাম্পার ভ্যান কাদা থেকে টেনে বের করা হয় এবং সেগুলো সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।


—‘জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ’-


ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সির সহকারী জাতীয় কমান্ডার ডেভিড গার্ড বলেন, ধীরে ও সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি জটিল ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছি। নিখোঁজদের খোঁজে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’


গ্রীষ্মকালে হাইকার ও সৈকতপ্রেমীদের কাছে মাউন্ট মাউঙ্গানুই পর্যটন কেন্দ্রটি বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। বৃহস্পতিবার কাছের বন্দরনগরী টাউরাঙ্গায় একটি বাড়িতে পৃথক একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে উদ্ধার কর্মীরা দুটি লাশ উদ্ধার করেছে।


ক্যাম্পসাইটে থাকা কানাডীয় ৩৪ বছর বয়সী পর্যটক ডিয়ন সিলুচ বলেন, ভূমিধসের সময় তিনি কাছের মাউন্ট হট পুলস কমপ্লেক্সে ম্যাসাজ নিচ্ছিলেন। পরে সেটি খালি করে দেওয়া হয়। তিনি বৃহস্পতিবার এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিধসের সময় পুরো কক্ষটি কেঁপে উঠেছিল। বাইরে এসে দেখি, একটি কারাভ্যান পুলের ভেতরে পরে আছে আর কাদার ঢল আমার থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে থেমেছে।’ তিনি জানান, তিনি প্রায় এক ঘণ্টা আগে আরেকটি ভূমিধস দেখেন। তবে বিষয়টিকে তিনি তখন তেমন একটা গুরুত্ব দেননি।


সূত্র: এএফপি


এসজেড