আওয়ামী লীগের বন্ধ দলীয় কার্যালয় খুলে দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান।
পঞ্চগড়ের চাকলাহাট ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বন্ধ দলীয় কার্যালয় খুলে দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয়ের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কার্যালয়টির তালা খুলে দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থাপনায় দলীয় কার্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান। বক্তব্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিস তালাবদ্ধ ছিল তা আমার জানা ছিল না। জানলে আগেই খুলে দিতাম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় এসেছে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিগুলো এক হয়ে ম্যান্ডেট দিয়েছে, যার ফলে আমরা সারাদেশে রেকর্ড ভোট পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক দলেই কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক থাকে, তাদের বহিষ্কারের নির্দেশ আমাদের ওপর আছে। এলাকায় যেন শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে উভয় দলকে খেয়াল রাখতে হবে।
নিজের ইউনিয়নে পরাজয়ের আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উপজেলা সভাপতি হয়েও আমার ইউনিয়নে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে পারিনি, এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু নেই।
আওয়ামী লীগ কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আপনাদের ওপর কোনো অন্যায় বা আক্রমণ হলে আমাকে জানাবেন। আমাদের নেতা কাল-পরশু শপথ নিয়ে মন্ত্রী হবেন, তখন সব বিষয় দেখা যাবে।
আবু দাউদ প্রধানের এমন কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, বিজয়ের পরপরই নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান, অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। এখন থেকে এটি মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করবেন এবং আপাতত এখানে আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম চলবে না।
তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে আবু দাউদ প্রধান বলেন, এটি দলের সিদ্ধান্ত নয়; এলাকায় উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি বজায় রাখতেই আমি অফিসটি খুলে দিয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, জেলা বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। উপজেলা সভাপতি যা করেছেন, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
thebgbd.com/NA