ব্যাংকের সামনে থেকে হাজি মার্কেটের সামনে পর্যন্ত আবার ভাঙাচোরা। স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে গত সেপ্টেম্বরে সেখানে কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে মোহনলাল এলাকা থেকে গোয়ালাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অংশ ভাঙাচোরা। সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের অংশ, দয়ামীর থেকে কুরুয়া বাজারের মধ্যবর্তী অংশও নাজুক। সিলেট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, ‘মহাসড়কের কাজ চলমান আছে। যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে আমরা সচেষ্ট আছি।’
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটারে দুর্ভোগ
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কুষ্টিয়ার ১৯ কিলোমিটার অংশ এখন চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা মেঠোপথে রূপ নেওয়া মহাসড়কে পাথর ও বিটুমিনের অস্তিত্ব নেই। এবড়োখেবড়ো ইট বিছানো ধুলাময় এ অংশ দিয়ে দিনে গড়ে প্রায় ১০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। গাড়িচালকরা জানান, ভাঙাচোরা মহাসড়কে তাঁদের গাড়ি নিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বটতৈল মোড় থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতীকরণ কাজ শুরু হয়। মহাসড়কের দুই পাশে পাঁচ ফুট বাড়িয়ে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হয়। ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়ার এক বছর যেতে না যেতেই পিচ উঠে এই অংশে খানাখন্দ বাড়তে থাকে। কয়েক দিন আগে সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাদালিয়া থেকে উজানগ্রাম ও বিত্তিপাড়া বাজার হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অংশ হেঁটে চলাচল করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল করিম বলেন, ‘মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ খারাপ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বেশি খারাপ অংশের কাজ করতে দরপত্র সম্পন্ন করে কার্যাদেশও দিয়েছি।’
রংপুরে ৩৫ কিলোমিটার গর্তভরা
রংপুর সড়ক বিভাগের ৩৯৫.৭৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ৩৫ কিলোমিটারে খানাখন্দ রয়েছে। সংস্কারের অভাব, ভারী যানবাহনের চাপে এ অবস্থা হয়েছে। মেরামতের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর মেডিক্যাল পূর্বগেট থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দময়। মডার্ন মোড় থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার সড়কে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। রংপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ সড়ক বিভাগের ৩৫ কিলোমিটার অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ চলছে।’
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ২৩ কিলোমিটার মৃত্যুফাঁদ
ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের উজিরপুর জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ড থেকে গৌরনদীর ভুরঘাটা পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটারে সংস্কারকাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের অধিকাংশ স্থানে ছোট-বড় গর্ত, কোথাও মহাসড়ক ফেটে গেছে, কোথাও বিশাল অংশ দেবে গেছে। বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহন বাড়ায় মহাসড়কের ২৩ কিমি অংশে প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজ অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থা বেশি খারাপ। তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। গর্তগুলো ইট-বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও তা উঠে যাচ্ছে। এসব স্থানে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ ছোট গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে অহরহ।
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে বেহাল আট কিলোমিটার
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের সংস্কারকাজ চলছে পাঁচ বছর ধরে। তবে মহাসড়কের প্রায় আট কিলোমিটার অংশ এখন ভোগান্তির বড় কারণ। এ বেহাল অংশ সংস্কারে গত নভেম্বরে নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি টাকা। ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা- চুকনগর অংশের কাজ চলছে। সংস্কারকাজের জন্য এ অংশে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত আরো আট কিলোমিটার ঢালাই করতে ১০০ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
thebgbd.com/NIT