মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে ফিরলে সরকার তাদের কর্মসংস্থান ও ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।
প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপ
ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা যতটুকু ধারণা করছি, এই যুদ্ধ হয়তো বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যেকোনো সময় যুদ্ধ সমাপ্তির পথে যেতে পারে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এটার ওপর আমাদের কোনো হাত বা নিয়ন্ত্রণ নেই। কাজেই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেখতে হবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির যদি অবনতি হয়, তাহলে প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে ফিরলে তাদের কর্মসংস্থান ও ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। ইতোমধ্যে এই দুই মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। যেসব প্রবাসীর বিমানের ফ্লাইটের টিকিট বাতিল হয়েছিল, তারা যেন পরবর্তীতে টিকিট পান, আমরা তা নিশ্চিত করেছি। এছাড়া যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসকে অনুরোধ করেছি।’
নতুন শ্রমবাজারের সন্ধান
যুদ্ধকবলিত এলাকায় নিহত প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে নুর বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক মারা গেছেন। তাদের বিষয়ে কাতার ও আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ফোনে আলাপ হয়েছে। তারা সংহতি প্রকাশ করেছেন। আশা করি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমাদের প্রবাসীদের খুব বেশি সমস্যা হবে না। এছাড়া আমরা নিজেরাও পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছি। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের মানুষদের জন্য নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি।’
নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়
বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘এই সরকার কারও প্রতিপক্ষ নয়, এই সরকার আমাদেরই সরকার। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ছাত্র-জনতাসহ আমরা সবাই মিলে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করছেন। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এই সরকারকে সবার সহযোগিতা করতে হবে। সরকারি দল, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজসহ সবাই মিলে সহযোগিতা করলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছে নিতে পারব।’
অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
thebgbd.com/NIT