ইউক্রেনের তৈরি ড্রোন কিনতে আগ্রহী বিদেশি দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সরাসরি নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারকে পাশ কাটাতে না পারে এ জন্য নিয়ম আরও কঠোর করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
কিয়েভ থেকে এএফপি জানায়, রোববার প্রকাশিত বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নতুন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা না করে ইন্টারসেপ্টর বিক্রি করায় সরকার ইতোমধ্যে একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে তিরস্কার করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলার উপায় খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের তাদের মিত্ররা এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
কিয়েভ এরই মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে, যারা ইরানি নকশায় তৈরি ড্রোন ভূপাতিত করার প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। বিনিময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যা রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম।
রোববার পর্যন্ত প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে কিছু সরকার বা কোম্পানির প্রতিনিধি নির্দিষ্ট কিছু সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ইউক্রেন রাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে যেতে চায়। এমনকি কিছু মুক্ত দেশেও আমরা শুরুতেই বেসরকারি খাত থেকে সরাসরি চুক্তি পাই না। প্রথমে রাজনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আমার কাছে চুক্তি আসে। এরপরই বেসরকারি খাত আমাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।’
জেলেনস্কি জানান, তার সরকার ইতোমধ্যে একটি কোম্পানিকে সতর্ক করেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা চাইলে বিক্রি করতে পারেন, ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের সেনা ছাড়া তা সম্ভব নয়। আর এটি গ্রহণযোগ্য নয় যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কার্যত আমাদের যোদ্ধা বা ড্রোন অপারেটরদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেবে।’
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির বিরুদ্ধে কয়েক দশ হাজার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেন তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি এবং বিমানবিধ্বংসী কামানের সমন্বিত ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
ইউক্রেন প্রস্তাব দিয়েছে, তারা তাদের কম খরচের ড্রোন ইন্টারসেপ্টর বিনিময় করতে পারে ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলো সস্তা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে এই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তবে ইউক্রেনের এগুলো প্রয়োজন উন্নত রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার জন্য।
সূত্র: এএফপি
এসজেড