সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪.৫ থেকে ৫ কেজি।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে ডিজিটাল স্কেলের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১৩ হাজার ৩৩৭টি পরিবারের জন্য ১৩৩ দশমিক ৩৭০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পৌরসভার ১ হাজার ৫৪৯টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ দশমিক ৪৯০ টন চাল। এর মধ্যে আটুলিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৩৭৩টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৩ দশমিক ৭৩০ টন।
তবে বাস্তবে বরাদ্দ অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। কয়েকটি প্যাকেট চাল ডিজিটাল স্কেলে মেপে দেখা যায়, কোনো প্যাকেটে ৪ দশমিক ৮৫০ কেজি, কোনোটি ৫ দশমিক ৩০০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৮০০ কেজি চাল রয়েছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী জানান, ১০ কেজির স্থলে তাঁদের দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি চাল, যা ঈদের আগে তাঁদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাল বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার শাহাদাৎ হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাঁকে সেখানে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই সময় তিনি জেলা কার্যালয়ে বৈঠকে ছিলেন। অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আটুলিয়া ইউনিয়ন ভিজিএফ কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, তালিকা প্রণয়ন থেকে চাল বিতরণ পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদই পরিচালনা করেছে, তারা শুধু তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্ত্তিক চন্দ্র মণ্ডল দাবি করেন, চাল কম দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত চাল ওয়ার্ডভিত্তিক জনপ্রতিনিধিদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের উপস্থিতিতেই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন ৫ কেজি করে চাল বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কার্ডধারীর বাইরেও অতিরিক্ত লোক সমাগম হওয়ায় সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ জানান, তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণ হয়েছে। অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে বাইরে কোথাও চাল ভাগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক।
thebgbd.com/NA