ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সাত মাসেও নিয়োগ নেই, অনিশ্চয়তায় পেট্রোবাংলায় নির্বাচিত ৩২৭ প্রার্থী

২০২৪ সালের ৫ মার্চ পেট্রোবাংলা কারিগরি, সাধারণ ও অর্থ ক্যাডারে মোট ৬৭০টি পদের বিজ্ঞপ্তি দেয়। একই বছরের ৩১ মে অনুষ্ঠিত হয় কারিগরি ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষা।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সাত মাসেও নিয়োগ নেই, অনিশ্চয়তায় পেট্রোবাংলায় নির্বাচিত ৩২৭ প্রার্থী ফাইল ছবি

বাংলাদেশে সরকারি চাকরি পাওয়া অনেক তরুণের স্বপ্ন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসা সেই স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি। কিন্তু চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও মাসের পর মাস নিয়োগ আটকে থাকলে তা হয় যেন “মরার ওপর খাঁড়ার ঘা”। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন পেট্রোবাংলার কারিগরি ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া ৩২৭ প্রার্থী।


চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সাত মাস পেরোলেও তাঁদের যোগদান এখনো হয়নি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দেড় বছর পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা।


২০২৪ সালের ৫ মার্চ পেট্রোবাংলা কারিগরি, সাধারণ ও অর্থ ক্যাডারে মোট ৬৭০টি পদের বিজ্ঞপ্তি দেয়। একই বছরের ৩১ মে অনুষ্ঠিত হয় কারিগরি ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ফলাফল। এর মধ্যে ২৯১টি পদের পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণত চূড়ান্ত ফলাফলের কয়েক মাসের মধ্যেই যোগদান হয়, কিন্তু এবার ব্যতিক্রম।


অন্তত ১০ জন প্রার্থী আগের চাকরি ছেড়ে এখন বেকার। কেউ পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কেউ আত্মীয়স্বজনের কটূক্তিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। একজন প্রার্থী বলেন, “তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ হবে ভেবেছিলাম। চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু সাত মাস হয়ে গেলেও কিছু হয়নি। এখন আর্থিক চাপের সঙ্গে মানসিক চাপও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।”


আরেকজন যোগ করেন, “গ্রামে গেলে সবাই প্রশ্ন করে কবে যোগদান করব। আমি নিজেও জানি না। লজ্জায় কথা বলতে ইচ্ছা করে না।”


প্রার্থীরা বলছেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই নিয়োগ আটকে আছে। কারিগরি ক্যাডারের ভেরিফিকেশন শেষ হলেও সাধারণ ও অর্থ ক্যাডারের প্রক্রিয়া এখনো চলমান।


পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম মাহবুব আলম বলেন, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নন–ক্যাডার নিয়োগবিধি অনুযায়ী একই বিজ্ঞপ্তির সব ক্যাডারের নিয়োগ একসঙ্গে দিতে হবে। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত শেষ করতে বলছি, কিন্তু নিয়ম ভাঙা সম্ভব নয়।”



প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, নিয়োগ আর দেরি হলে অনেকের বয়সসীমা শেষ হয়ে যাবে, ফলে নতুন করে চাকরির সুযোগও হাতছাড়া হবে। একজন আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের ভবিষ্যৎ আটকে আছে। যত দেরি হচ্ছে, ততই বয়স বাড়ছে। আরেকবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয়তো থাকবে না।”


তাদের দাবি, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে, যাতে আর কোনো প্রজন্ম এভাবে ভোগান্তির শিকার না হয়।


thebgbd.com/NIT