ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইরানকে চুক্তির পরামর্শ

মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হওয়া ঠেকাতে সবকিছু করবে ওয়াশিংটন।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানকে চুক্তির পরামর্শ ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেওয়ায় ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার ইরানকে সতর্ক করে বলা হয়, এই মুহূর্তে একটি চুক্তিতে আসা তেহরানের জন্য ‘বুদ্ধিমানের’ কাজ হবে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।


ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালানোর জেরে ট্রাম্প বারবার সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন। তবে ওমানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি দুই পক্ষ আবারও পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তি করা ইরানের জন্য অত্যন্ত বিচক্ষণতার কাজ হবে।’


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির মধ্যেই বুধবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ আবারও ইরানের ওপর হামলার ইঙ্গিত দেন। তিনি ব্রিটেনকে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ওপর সার্বভৌমত্ব ছাড়তে নিষেধ করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে দিয়েগো গার্সিয়া বিমানঘাঁটি প্রয়োজন হতে পারে। এসময় তিনি ইরানকে ‘অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসনব্যবস্থা’ বলেও উল্লেখ করেন।


সিএনএন ও সিবিএস জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী চলতি সপ্তাহারে শেষেই ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তবে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ট্রাম্পকে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প দেখানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সবগুলোই সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করার মতো পরিকল্পনা। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বহু রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যা করে সরকার পতন ঘটানো।


এদিকে তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করছে ইরান। মঙ্গলবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরাঘচি জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটন কিছু ‘নীতিমালার’ বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান এখনো ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ সব শর্ত মেনে নেয়নি। 


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না।’ তবে মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই আমি শান্তিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু তারা যদি আমাদের ওপর তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়, আমাদের অপমান করে এবং মাথা নত করতে বাধ্য করতে চায়, তবে কি আমাদের তা মেনে নেওয়া উচিত?’


আরাঘচি একই দিনে জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি’র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরান ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি সুসংহত কাঠামো তৈরি করছে। এদিকে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হওয়া ঠেকাতে সবকিছু করবে ওয়াশিংটন। 


প্যারিসে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার এক সভার ফাঁকে তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে তারা কী করতে চায় সে বিষয়টি তারা স্পষ্ট করেছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ ওমানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি কমানো। অন্যদিকে তেহরান চায় তাদের অর্থনীতির ওপর জেঁকে বসা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হোক।


ইরান চায় আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকুক। তবে ওয়াশিংটন আগে থেকেই ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। আলোচনা চললেও ইরানের আশেপাশে সামরিক শক্তি বাড়িয়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। 


স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, প্রথম রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রোববার পর্যন্ত ইরানি উপকূল থেকে মাত্র ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। জবাবে ইরানও তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে। সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালীতে মহড়া শুরু করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানি রাজনীতিবিদরা বারবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, যা বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, মহড়ার সময় নিরাপত্তার খাতিরে জলপথের কিছু অংশ বন্ধ রাখবে তেহরান।


সূত্র: এএফপি


এসজেড